জাতীয়

লালদিঘীতে বলি খেলার ম্যুরাল উদ্বোধন, চত্বরের নাম ‘জব্বার চত্বর’

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলার স্মৃতি ধরে রাখতে নগরের লালদিঘী চত্বরে একটি নতুন ম্যুরাল উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

Advertisement

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ম্যুরাল উদ্বোধনের পাশাপাশি চত্বরটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জব্বার চত্বর’ ঘোষণা করা হয়।

লালদিঘী ময়দানসংলগ্ন নবনির্মিত এ ম্যুরালে টেরাকোটার ত্রিভুজাকৃতির নকশার মধ্যে বলি খেলার প্রতিকৃতি, ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে হাতুড়ির চিত্র এবং শেকল ভাঙার ভাস্কর্যচিত্র স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, চট্টগ্রামের ইতিহাস, সংগ্রাম ও ঐতিহ্যকে একসঙ্গে তুলে ধরতেই এ নকশা করা হয়েছে।

উদ্বোধনের আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলি খেলার ইতিহাস ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল।

Advertisement

সেখানে মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আয়োজকেরা আমাকে এই চত্বরকে আব্দুল জব্বারের নামে নামকরণের অনুরোধ করেছিলেন। আমি তাদের কথা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি ম্যুরাল নির্মাণ করেছি, যেখানে বলি খেলা, বীর চট্টগ্রামের সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং ন্যায়বিচারের চেতনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এ উদ্যোগ।

আয়োজকেরা জানান, শুক্রবার থেকে শুরু হবে ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলি খেলা ও বৈশাখী মেলা। শনিবার লালদিঘী মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলি খেলার ১১৭তম আসর। ওই দিন খেলার উদ্বোধন করবেন হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন মেয়র।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষা থাকায় মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

Advertisement

আয়োজকেরা জানান, ২৬ এপ্রিল পরীক্ষা থাকায় মেলা রোববার ভোরের মধ্যেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা না হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, চিকিৎসা দল ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের সংগঠিত করতে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর লালদিঘী মাঠে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেটিই ‘বলি খেলা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং পরে তা চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন লোকজ উৎসবে পরিণত হয়।

এমআরএএইচ/এসএইচএস