এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানের পতাকাবাহী তেলের জাহাজ আটক করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই তিন জাহাজের মধ্যে একটি ‘ডোরেনা’ নামের সুপার ট্যাঙ্কার। এই ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত (ক্রুড) তেল ছিল।
Advertisement
আটক অন্য দুটি জাহাজ হচ্ছে ‘ডিপ সি’, ‘সেভিন’। বর্তমানে ভারত মহাসাগরে থাকা একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ জাহাজগুলো ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছিল বলে বুধবার (২২ এপ্রিল) নিরাপত্তা ও শিপিং সূত্র জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এছাড়া ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি ইরানি ট্যাঙ্কারকেও আটক করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ট্যাঙ্কারটি ভারতের উপকূলে তেল খালাস করতে ব্যর্থ হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।
Advertisement
অন্যদিকে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হলেও, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শান্তি আলোচনার অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই পথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি কার্গো জাহাজ ও একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে। অন্যদিকে ইরানও বুধবার ( ২২ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করা দুটি কনটেইনার জাহাজ আটক করে।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে দেশজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়। ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন দফায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানে।
Advertisement
পরে ৭ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা দুই সপ্তাহের জন্য সংঘাত স্থগিত করে। ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন সংস্থাটির প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথবাহিনীর হামলায় মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। তিনি বলেন, এখনো চারটি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কেএম