মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ নানা অজুহাতে দফায় দফায় বাড়ছে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। সবশেষ ভোক্তাপর্যায়ে গত ১৯ এপ্রিল বাড়ানো হয় এলপি গ্যাসের দাম। এবার ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। দাম বৃদ্ধি পেলেও নির্ধারিত দামে মেলে না পণ্যটি।
Advertisement
তবে এলপিজি অটোগ্যাস সেক্টরকে ট্যাক্স হলিডে সুবিধা প্রদান ও পণ্যটির ওপর বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ মূসক বা ভ্যাট প্রত্যাহার চেয়েছে এ খাতের সংগঠন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।।
সংগঠনটির দাবি এসব সুবিধা দিলে ভোক্তা পর্যায়ে মিলবে স্বস্তি। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরে এসব প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবে সংগঠনটি জানায়, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সরকার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি অটোগ্যাসকে উৎসাহিত করেছে এবং এই শিল্প বিকাশের জন্য নীতিমালা করা হয়েছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী সারাদেশে প্রায় ১০০০টি এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপিত হয়েছে যাতে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। যেহেতু অধিকাংশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনের বিক্রয় আশানুরূপ নয়, তাই স্টেশনের পরিচালনা ব্যয় বহন করা এবং ব্যাংকের লোন পরিশোধ করা স্টেশন মালিকদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
Advertisement
সংগঠনটি এই শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে আগামী ১০ বছর এলপিজি অটোগ্যাস সেক্টরকে ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছে। এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও শিল্প কলকারখানায় এলপিজি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি না করে দেশেই উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২১ কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
সিএনজির সঙ্গে এলপিজির মূল্য সমন্বয় এবং সিএনজির ভর্তুকি বন্ধ করার প্রস্তাব করেছে তারা। প্রস্তাবের পক্ষে বলা হয়, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ না থাকায় গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হচ্ছে। মূলত যানবাহন খাতে সিএনজি ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল গণপরিবহণে ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পরিবহন খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো।
এসএম/এমআইএইচএস
Advertisement