ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ব্যর্থ হবার পর ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে একটি অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক চাপ প্রয়োগের অভিযান শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানি জাহাজ আটক ও জব্দ করা শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
Advertisement
মার্কিন শতবর্ষী সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোতে পূর্ণ অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই অবরোধ কার্যকর করছে। গত সপ্তাহে পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ডান কেইন আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযানের ঘোষণা দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে প্রথমে মার্কিন বাহিনী যোগাযোগ করে সতর্ক করে। নির্দেশনা অমান্য করলে জাহাজটি অচল করে দিয়ে তাতে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
Advertisement
এই অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার (১৯ এপ্রিল) এমনই এক অভিযানে ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘তুসকা’ জব্দ করা হয়। জাহাজটি খার্গ দ্বীপ থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক এই অভিযান পরে আরও বিস্তৃত করা হয়। ইরানের জন্য সহায়তা বা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত জাহাজগুলোকেও এখন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকেও দুটি ইরানি পতাকাবাহী এবং একটি কোনো রাষ্ট্রীয় পতাকাবিহীন জাহাজে অভিযান চালিয়ে জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের অভিযোগ, ইরানের চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
পেন্টাগন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জানায়, ‘এম/এন টিফানি’ নামের একটি জাহাজকে ইউএস ইন্দোপ্যাসেফিক কমান্ড (ইন্দোপাকম) আটক করেছে। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছে ইন্দোপাকম।
ভেনেজুয়েলা মডেলে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ অভিযানইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ প্রয়োগ অভিযান ‘ইকোনমিক ফিউরি’ এর আগে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন সামুদ্রিক অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে।
Advertisement
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথাকথিত ‘ডার্ক ফ্লিট’ জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে যেমন আটলান্টিক, ভারত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে জাহাজ জব্দ করা হয়েছিল, তেমনি কৌশল এখন ইরানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ট্রেজারি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে।
ট্রেজারি বিভাগের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামুদ্রিক অবরোধ এবং ইরান-সংযুক্ত জাহাজ জব্দ ইত্যাদি সব মিলিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি সক্ষমতা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। কারণ এই তেল আয়ের ওপরই দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার বড় অংশ নির্ভরশীল।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, এই কঠোর অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা বা চুক্তি অর্জনে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযানের অর্থনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক হতে পারে। কিছু অনুমান অনুযায়ী, মার্কিন এই চাপ প্রয়োগ কার্যক্রমের খরচ প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, দ্য হিল, ওয়াশিংটন পোস্টকেএম