জাতীয় সংসদে সড়ক ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, তিনি ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দূরত্ব কমাতে চান এবং স্বাচ্ছন্দ্যে রেলযাত্রা উপভোগ করতে চান। এরইমধ্যে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত একটি নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইনের নির্মাণকাজ চলমান। এটি জুনে উদ্বোধন হওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসের এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী বলেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা-বগুড়া রুটে ১২০ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে এবং দুই ঘণ্টা যাত্রা কমবে। অর্থাৎ, এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন চলমান।
সিরাজগঞ্জ ও বগুড়াবাসীর ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ বগুড়া থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদিত হয়, যা বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় ঋণের অর্থে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪৬ কোটি ৫৯ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ দেবে ভারত। যার মেয়াদ ধরা হয় ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু পরামর্শক নিয়োগ এবং নকশা চূড়ান্ত বিলম্বের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
Advertisement
২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার পর ২০২৩ সালের ৩০ জুন চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন করে। এরপর মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের অগ্রগতি হিসেবে শুধুমাত্র সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত নকশা তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জমির বেশিরভাগ অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এ প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় ভারত। প্রকল্পটি এখন নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন করে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-বগুড়া যাত্রায় সময় কমবে। এ পথে অর্ধশতাধিক ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। সরাসরি উপকৃত হবে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার মানুষ, কৃষি ও অর্থনীতি।
ডাবল লাইনের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দূরত্ব কমবে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। সময় বাঁচবে প্রায় চার ঘণ্টা। ঢাকা থেকে সড়কপথে বগুড়া পৌঁছাতে লাগে ৬ ঘণ্টা, সেখানে ট্রেনে যেতে লাগে ১০-১১ ঘণ্টা। নতুন এ লাইন হলে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে মাত্র ৫ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব।
নতুন করে ৮টি স্টেশন নির্মাণ হচ্ছে। স্টেশনগুলো হলো- সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, ছোনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রানীরহাট। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরির লেভেল ক্রসিং গেট নির্মাণ হবে ১০৬টি। ১১টি স্টেশনে কম্পিউটার বেজড সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপিত হবে।
এমওএস/এএমএ
Advertisement