এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট সহায়তা বাড়াতে বড় ধরনের সংস্কার অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ঋণসীমা শিথিল করে অর্থায়ন সক্ষমতা ৫০ শতাংশ বাড়ানো, জ্বালানি নীতির হালনাগাদ, ক্রয় প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই গুরুত্বপূর্ণ খনিজভিত্তিক ভ্যালু চেইন সমর্থন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
Advertisement
এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে এডিবি আরও লক্ষ্যভিত্তিক, উচ্চমানের ও বিস্তৃত উন্নয়ন অর্থায়ন দিতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫-এ ব্যাংকটির ২০২৫ সালের কার্যক্রম, প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি এবং আর্থিক দিকগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।
এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেন, ২০২৫ সালে এডিবি নজিরবিহীন সহায়তা দিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি এবং এর মাধ্যমে ৩ দশমিক ৩ মিলিয়নের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১৮০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের উপকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি প্রমাণ করে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও বৃহৎ পরিসরে সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা এডিবির রয়েছে।
Advertisement
সরকার ও বেসরকারি খাতে দেওয়া ঋণ, অনুদান, ইক্যুইটি বিনিয়োগ, গ্যারান্টি এবং কারিগরি সহায়তা বছরে ২০ শতাংশ বেড়ে ২৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এতে অংশীদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা যুক্ত হয়েছে।
২০২৫ সালে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এডিবির একটি প্রধান অগ্রাধিকার ছিল, যেখানে মোট প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এই খাতে বরাদ্দ করা হয়। পাশাপাশি সরকারি খাতের প্রতিশ্রুতির অর্ধেক সরাসরি অবকাঠামো, সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে, যা বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়তা করবে। একই কাঠামোর অধীনে সরকারি ও বেসরকারি খাত পরিচালনা, একক আইনি সত্তা এবং একীভূত আর্থিক কাঠামো থাকার কারণে বেসরকারি খাত উন্নয়নে এডিবি বিশেষভাবে সক্ষম।
এডিবি ২০২৫ সালে মধ্য-পশ্চিম এশিয়ায় ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, পূর্ব এশিয়ায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৬৮০ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ এশিয়ায় ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৯ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, আঞ্চলিক প্রকল্পের জন্য ৩০২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে শীর্ষ তিনটি খাত ছিল অর্থনীতি, পরিবহন এবং সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা।
২০২৫ সালে এডিবি উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-
Advertisement
এডিবি সনদ সংশোধন করে ঋণ প্রদানের সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া, যার ফলে শেয়ারহোল্ডারদের অতিরিক্ত মূলধন ছাড়াই অর্থায়ন সক্ষমতা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।
জ্বালানি নীতিমালার হালনাগাদ, যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানি প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করা যায়।
ক্রয় প্রক্রিয়া সহজীকরণ, যা গুণগত মান, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি জোরদার করবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়নে নতুন কৌশল গ্রহণ, যেন দায়িত্বশীল ও টেকসই উপায়ে এই খাতকে কাজে লাগানো যায়।
আইএইচও/এএমএ