১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয় নিয়ে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসন নিয়ে গত ২০ এপ্রিল শতবর্ষী পত্রিকাটি সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য এলিট কাউফম্যানের একটি মতামত প্রকাশ করে।
Advertisement
এর জবাবে বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। এই পোস্টে লেখক এলিট কাউফম্যান-কে ‘মূর্খ’ বলেন ট্রাম্প।
উক্ত সম্পাদকীয়টির শিরোনাম ছিল, ইরানিরা ট্রাম্পকে ‘বোকা’ হিসেবে দেখে (The Iranians Take Trump for a Sucker)। এই লেখায় ইরান নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করা হয়।
কাউফম্যান ওই লেখায় দাবি করেন, ট্রাম্প কিছু ক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিকভাবে সহজ’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কিন্তু কৌশলগতভাবে তা সঠিক ছিল না। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখার বদলে কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান দুর্বল করেছে।
Advertisement
তিনি আরও লেখেন, দুইবার হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে সেটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। উলটো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান আরও সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।
সামাজিক মাধ্যমের ওই পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ৪৭ বছর ধরে অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টরা যা করতে পারেনি তিনি তা করেছেন। ইরানের নৌবাহিনী ‘সমুদ্রের’, বিমান বাহিনী ‘ধ্বংস হয়ে গেছে’, এবং রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, জুন মাসে (২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধ) ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও স্টোরেজ এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে। ওই পোস্টে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত ইরানের ক্ষমতাধর সামরিক নেতা কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এবং সেখানে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে।
Advertisement
এদিকে সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কৌশলগতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে এবং এতে তেহরান অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
দ্বিতীয় দফায় বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরমাণু এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভাব হচ্ছে না।
কেএম