অপরাধ দমনে রাজধানীজুড়ে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার। একই সঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ছিনতাই ঠেকাতে ৭০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরের বছিলায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন ও মোহাম্মদপুর থানার ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
মো. সরওয়ার বলেন, বছিলা এলাকায় সরকারিভাবে ৭০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। গুলশান বনানী এলাকায় আগে থেকেই ১৩০০ সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। যার কারণে ওই এলাকায় অপরাধ কম।
বছিলাবাসীর উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাসা বাড়ির আশেপাশে আপনারাও সিসি ক্যামেরা লাগান। আমরা বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে বা যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ৭০০ ক্যামেরা স্থাপন করবো। এর বাইরেও ঢাকাজুড়ে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা লাগানোর একটি প্রকল্প বর্তমান সরকার অচিরেই পাস করে দেবে। এই সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করলে ঢাকা মহানগর আরও নিরাপদ হবে।
Advertisement
মো. সরওয়ার বলেন, মোহাম্মদপুর অপরাধপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানে আমরা আরও একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করবো। এরই মধ্যে যে ফাঁড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে সেখানে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও পেট্রোল ইন্সপেক্টর দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বছিলা বা মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধী যারা আছে তাদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। এই তালিকা আমরা এনালাইসিস (বিশ্লেষণ) করবো। এনালাইসিস করবো এইভাবে যে, এখানে বৈধ ইনকামের বাইরে যদি কেউ থাকে, এই অবৈধ ইনকামের প্রত্যেককে আমরা এনালাইসিস করবো, তারা কি করে, কি না করে। প্রয়োজন হলে তাদের ধরবো। এলাকায় অটোরিকশার দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করে সচেতন মানুষকে অটোরিকশা বর্জনের আহ্বান জানান মো. সরওয়ার।
যারা অপরাধী তাদের ছবি অচিরেই প্রচার করার কথা জানিয়ে মো. সরওয়ার বলেন, অপরাধীদের আপনারা ধরিয়ে দেবেন, পুরস্কার দেওয়া হবে। আপনারা আমাদের গোপনে চিনিয়ে দেবেন, গোপনে তথ্য দেবেন অপরাধী কারা কারা আছে।
জেনেভা ক্যাম্পে অনেক পুলিশ মোতায়েন করা ছিল, কিন্তু বর্তমানে তুলে নেওয়া হয়েছে কেন?—এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা এখানে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছি। পাশাপাশি র্যাব, ডিবি, পুলিশ কাজ করছে। নতুন সরকার আশায় আমরা এ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করেছি। অপরাধীদের ধরতে আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছি। এই এলাকায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড করছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। আমরা তাদের আইডেন্টিফাই করে আইনের আওতায় আনবো। অপরাধীদের ধরা আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।কেআর/এমএমকে
Advertisement