স্বাধীনতার অন্যতম নায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি জাতীয় সংসদে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. আব্দুল ওয়ারেছ। একই সঙ্গে তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ দলটির প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করেন।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আব্দুল ওয়ারেছ বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার একমাত্র ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার অন্যতম নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আরেকজন নেতা যিনি স্বাধীনতার অগ্রদূত, যিনি ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘ব্যালট বক্সে লাথি মারো, পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করো’, সেই মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান বিরোধী দলের এ সংসদ সদস্য।
আরও পড়ুনশুধু গ্রাম নয় ঢাকাতেও হবে লোডশেডিং: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটের সমাধান খুঁজতে সরকার ও বিরোধীদল নিয়ে হচ্ছে কমিটি
Advertisement
তিনি বলেন, আরও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এ দেশের মাটিতে ইসলামি রাষ্ট্র ও কোরআন-সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে প্রথম শহীদ আবদুল মালেককে। এছাড়া তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও কামারুজ্জামানকে স্মরণ করেন।
এসময় গণভোটের প্রতি বিএনপি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে না দাবি করে জামায়াতের এ এমপি বলেন, বিএনপি গণভোটকে অপমান ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের নানান ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কিন্তু সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম রয়েছে। আমি নিন্দা করছি, তীব্র আপত্তি করছি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এখনো কেন তা সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হলো না? তিনি বিষয়টি সংবিধানে দ্রুত যুক্ত করার দাবি জানান।
বর্তমান ছাত্র রাজনীতি নিয়ে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রী ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের যে ছাত্ররাজনীতি চলছে, তা নিয়ে সংসদে গভীর আলোচনা তুলে ধরতে পারি। কারণ, এখনো যে ছাত্ররাজনীতিটা গত দুই-তিনদিন যাবত লক্ষ্য করছি, এ প্রজন্ম তা পছন্দ করে না। কারণ, ফ্যাসিস্টের ধারাবাহিকতায় চাপাতি, অস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক নিয়ে.. পাঁচ আগস্টের পর সেই ছাত্ররাজনীতি থাকবে, ছাত্ররাজনীতির ময়দানটাকে কলুষিত করা হবে। জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে, সেইভাবে ছাত্ররাজনীতি নিয়েও সংসদে আলোচনার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
এমওএস/কেএসআর
Advertisement