সিরিজের প্রথম ম্যাচে ঠিক টসের আগেই একাদশ থেকে ছিটকে যান। ওয়ার্মআপের সময় পাওয়া হাঁটুর চোট তাকে খেলতে দেয়নি পরের ম্যাচেও। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে হারলেও পরের ম্যাচে জিতে সিরিজে সমতা ফেরায়। চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে একাদশে ফেরেন তিনি। আর ফিরেই সেই ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স। বল হাতে একাই নিউজিল্যান্ডের ৫ ব্যাটারকে দেখান ড্রেসিংরুমের পথ। এতক্ষণে বুঝে ফেলার কথা, বলছি বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের কথা। ম্যাচ শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৯ ওভারে ৪৩ রান খরচায় ৫ উইকেট।
Advertisement
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। যা কিনা কিউইদের বিপক্ষে এক যুগ পর টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয়। এমন ম্যাচে একাদশে ফিরেই ভেলকি দেখালেন ফিজ। একে একে তুলে নেন নিউজিল্যান্ডের ৫ ব্যাটারের উইকেট। ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ফাইফার নিয়েছিলেন তিনি। ৭ বছর পর আজ আবার ওয়ানডেতে ফাইফারের দেখা পেলেন এই বাঁহাতি পেসার।
ওয়ানডেতে এ নিয়ে ৬ বার ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশে ওয়ানডেতে তার চেয়ে বেশি ফাইফার নেই আর কারও। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসানের, দুজনই ফাইফার নিয়েছেন ৪বার করে। সবমিলিয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ফাইফার নেওয়ার তালিকায় যৌথভাবে আট নম্বরে আছেন মোস্তাফিজ। বাকি ৭ জন হলেন মোহাম্মদ শামি, ট্রেন্ট বোল্ট, রাশিদ খান, ল্যান্স ক্লুজনার, সাকলাইন মুশতাক ও ওয়াসিম আকরাম। এই তালিকায় শীর্ষে ১৪ বার ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া পাকিস্তানের সাবেক পেসার ওয়াকার ইউনিস।
এদিন নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ওপেনার হেনরি নিকোলসকে দিয়েই শিকারের যাত্রা শুরু করেন মোস্তাফিজ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে টানা অফ স্টাম্পের বাইরে বল করতে করতে আচমকা নিকোলসের শরীর বরারর বাউন্সার করেন তিনি। গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে দুর্বল এক হুক খেলে লিটনের গ্লাভসে ধরা পড়েন নিকোলস। উইকেটে সেট হয়ে গিয়েছিলেন নাথান কেলি। তাকেও ফেরান মোস্তাফিজ/ ২৬তম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে দারুণ এক স্লোয়ারে বোকান বানান কেলিকে। শরীর থেকে অনেক দূরে গিয়ে বড় কাট খেলতে গিয়ে প্রায় ভারসাম্য হারান কেলি, সেটা কাভারে গিয়ে ধরা পড়ে ফিল্ডারের হাতে।
Advertisement
ফিজের তৃতীয় উইকেটটিও তার বিখ্যাত স্লোয়ার কাটারে আদায় করা। ঘণ্টায় ১০৯.০৮ কিলোমিটার গতিতে আসা ডেলিভারি ফ্লিক করেছিলেন স্মিথ, ডানদিকে পুরো ডাইভ দিয়ে সেটি তালুবন্দি করেন মিরাজ। এবার স্লো বাউন্সারে ধরেন চতুর্থ শিকার, লেনক্স যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলে না। আর ও’রুর্ককে আউট করে পূর্ণ করেন ফাইফার। লেগ স্টাম্পে লেন্থ বল, ভেতরের দিকে ঢুকে ও’রুর্কের ব্যাট এড়িয়ে স্টাম্প ভেঙে দেয়। আর এর মধ্য দিয়েই তুলে নিলেন নিজের পাঁচ উইকেট।
ম্যাচ শেষে ফিজকে প্রশংসা বৃষ্টিতে ভেজান অধিনায়ক মিরাজ। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে এবং ও যেভাবে বোলিং করেছে আমরা সবসময় আশা করি মোস্তাফিজ এরকমই বোলিং করবে। সে বাংলাদেশকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। এরকম একটা প্লেয়ার থাকলে টিমের জন্য অনেক সুবিধা হয়। বিপদে পড়লেই মোস্তাফিজকে আমরা চিন্তা করতে পারি কারণ ও এত ম্যাচ জিতিয়েছে বাংলাদেশকে।’
এসকেডি/আইএন
Advertisement