বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মূল কারণ ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা। অবৈধ এই সামরিক আগ্রাসনের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের এই নৌ-পথটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো। তবে এই সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষের মধ্যে এক দফা আলোচনা হলেও কয়েকটি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারছে না দেশগুলো।
Advertisement
এমন অচল অবস্থার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আলোচনার জন্য একটি ‘নির্দিষ্ট সীমারেখা’ দিয়েছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। ইরানের জাতীয় সেনা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সাইডলাইন বৈঠকে তিনি সাংবাদিকদের এই বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা তাস।
রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির দিকে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে এই আলোচনায় তেহরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং পুনরায় হামলা না করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
তিনি জানান, তারা যদি যুদ্ধ চায়, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আর যদি আলোচনা হয়, তবে তা হতে হবে ন্যায্য এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে, যেখানে ইরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পুনরায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এসব বিষয়ে যদি সম্মতি থাকে সেক্ষেত্রে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
Advertisement
পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অভিযোগ এনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ‘অপারেশন এপিক ফিউর’ নামের এই অভিযানে ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়। পরে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।
১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই আলোচনা বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন সংস্থার তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথবাহিনীর হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া এই যুদ্ধে ইরানে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
কে এম
Advertisement