দেশজুড়ে

১১ মাস ধরে বন্ধ উখিয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, সেবাবঞ্চিত লাখো রোগী

অর্থ সংকটে দীর্ঘ ১১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ার এনজিও পরিচালিত স্পেশালাইজড হাসপাতালটি। এতে করে উখিয়া ও টেকনাফের লাখের অধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী জরুরি ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আশপাশের ইউনিয়নের রোগীদের সাধারণ চিকিৎসা পেতেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগে এই হাসপাতাল থেকে যেসব জটিল রোগের চিকিৎসা পাওয়া যেত, এখন হাসপাতাল বন্ধের কারণে সেসব সেবা থেকে বঞ্চিত লোকজন।

শুধু তাই নয়, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় চিকিৎসার দামি জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘটছে চুরির ঘটনাও।

২০২২ সালের জুলাই মাসে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া উখিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালটি দাতা সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের ব্যবস্থাপনায় আরও আধুনিক ও উন্নত করে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছিল। স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগণের জন্য হাসপাতালটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছিল। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতেন। অভিজ্ঞ ডাক্তার ও তরুণ স্বাস্থ্যকর্মীরা এখানে দায়িত্বরত ছিলেন।

Advertisement

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র অর্থায়নে নির্মিত হয় হাসপাতালটি। প্রতিদিন বহির্বিভাগে মাতৃস্বাস্থ্য, দন্তরোগ, চক্ষুরোগ, ফিজিওথেরাপি ও ল্যাবরেটরি টেস্টসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হতো। জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হতো। তবে পরে দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা না পেলে ২০২৫ সালে মে মাসে সেটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান বলেন, এনজিও সংস্থা দ্বারা পরিচালিত স্পেশালাইজড হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সংকটে বন্ধ রয়েছে। এই হাসাপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো। বন্ধের কারণে স্থানীয় জনগণসহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা সেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষকে দূর-দূরান্তে যেতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি। দ্রুত অর্থ বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে হাসপাতালটি আবারও চালু করা সম্ভব হবে। স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, স্পেশালাইজড হাসপাতালটি আগে একটি এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে তারা কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের (আরআরআরসি) কাছে হাসপাতালটি বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে থাকা বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতি চুরির খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশকে পাহারার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজরদারি বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।

Advertisement

জাহাঙ্গীর আলম/এফএ/এএসএম