চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্বামীকে ফিরিয়ে আনার আশায় ঝাড়ফুঁক করাতে গিয়ে এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সজল কান্তি দাশ ওরফে সজল বৈদ্য (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গোপনে ভিডিও ধারণ করে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
Advertisement
শনিবার (২৫ এপ্রিল) এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানায়, ধর্ষণের অভিযোগে ওই নারী বাদী হয়ে সজল বৈদ্যকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ওই নারী স্বামীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশে তাবিজ-কবচ ও ঝাড়ফুঁক করাতে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ায় সজল বৈদ্যের বাড়িতে যান। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সজল বৈদ্যের স্ত্রী ঝর্না রানী দাশ বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন- মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), নুরুল আবছার (৪২) ও মো. জয়নাল উদ্দিন (৩১)।
Advertisement
চাঁদাবাজির মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার পর ওই নারী বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তিনজন নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সজল বৈদ্যের বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে তারা গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই নারীর সঙ্গে থাকা একটি হাতব্যাগে গোপন ক্যামেরা ছিল। কৌশলে তিনি সজল বৈদ্যের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। পরে একটি কক্ষে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় জাহাঙ্গীর, আবছার ও জয়নাল ওই কক্ষে ঢুকে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সজল বৈদ্য ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও তারা দুই লাখ টাকার দাবিতে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে সজল বৈদ্যের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তিনজনকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তিনজনকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত রেজা জয়ন্ত বলেন, ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটিতে সজল বৈদ্য এবং অন্যটিতে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। চারজনকেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Advertisement
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, দুটি মামলার বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এমআরএএইচ/এএমএ