দেশজুড়ে

জামায়াত এমপির ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৯

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সোয়া ২টার দিকে মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে নিকটতম পূর্বধলা উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক মো.আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতআসামি করা হয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করে।

Advertisement

এমপির ওপর হওয়া এ হামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা শহরের বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া ৯ জনের মধ্যে মামলার এজাহারে উল্লেখিত ২০ নম্বর আসামি মো.খায়রুল ইসলাম রয়েছেন; অন্যরা সন্দিগ্ধ। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে মাছুম মোস্তফা একটি মাদরাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় পথে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উপজেলা সদরের আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে জ্বালানি তেল ভরার উদ্দেশে যান। পরে গাড়ি রেখে মাগরিবের নামাজের জন্য স্থানীয় মসজিদে যান। কিছুক্ষণ পর ১৫টির মতো মোটরসাইকেলে ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক পাম্পে এসে মোটরসাইকেলে তেল নিতে চান এবং সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি করেন।

Advertisement

আরও জানা যায়, এক পর্যায়ে তারা মাছুম মোস্তফার গাড়িটিতে ভাঙচুর চালান। এ সময় মাছুম মোস্তফা নামাজ শেষ করে ঘর থেকে বের হতে চাইলে বিক্ষুব্ধ যুবকেরা তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সস্য ছিলেন। তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছিলেন না। খবর পেয়ে ঘণ্টাখানেক পর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদারসহ পূর্বধলা থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য এসে সংসদ সদস্যকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাঠানো গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে মাছুম মোস্তফা উপজেলা জামায়াত ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় রাতে তার ব্যক্তিগত সহকারী বাদী হয়ে মামলা করেন।

সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, আমি পাম্পে গাড়ি রেখে নামাজ আদায় করতে গেলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং আমার সঙ্গে থাকা উপজেলা জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদিনসহ দলীয় নেতাকর্মীরে ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। অনেকক্ষণ পর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবুকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাই আসামিদের যেন দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়।

Advertisement

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবু তাহের তালুকার জানান, ওই সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। সংসদ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়টি মোবাইলে শোনার সঙ্গে সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এখন শুনছি উল্টো আমাকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। হামলার বিষয়টি যেমন দুঃখজনক তেমনি আমাকে আসামি করাতেও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারণ আমি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আর যতটুকু জানি আমার দলীয় কোনো নেতাকর্মী এই হামলা করেননি। আমাকে সহ দলীয় নেতাকর্মীদের নামে এটা মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নেত্রকোনা জেলা শহরের জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। নেত্রকোনা শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

কেএএইচ/এএমএ