লাইফস্টাইল

মেয়োনিজে স্বাদের আড়ালে লুকিয়ে আছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

বর্তমানে ফাস্ট ফুডের জগতে মেয়োনিজ এক অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে। মোমো, বার্গার, স্যান্ডউইচসহ প্রায় সব খাবারেই এই সাদা ক্রিমি সসের ব্যবহার দেখা যায়। অনেকেই এর স্বাদে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে মেয়োনিজ ছাড়া খাবার যেন অপূর্ণ লাগে। কিন্তু এই আকর্ষণীয় স্বাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তাইতো ভারতের তামিলনাড়ুতে কাঁচা ডিম দিয়ে তৈরি মেয়োনিজের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ এবং বিক্রয়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Advertisement

কাঁচা ডিম ও ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি

মেয়োনিজ তৈরির প্রধান উপাদান হলো কাঁচা ডিম। যদি এই ডিম সঠিকভাবে রান্না বা পাস্তুরাইজ না করা হয়, তাহলে এতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। বিশেষ করে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এটি শরীরে প্রবেশ করলে জ্বর, পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এবং মারাত্মক পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে।এছাড়া ই. কোলাই ও লিস্টেরিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়াও কাঁচা ডিম থেকে তৈরি মেয়োনিজে থাকতে পারে। এগুলো কিডনির ক্ষতি, গর্ভবতী নারীদের জন্য জটিলতা এবং নবজাতকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

গরমে ঝুঁকি আরও বাড়ে

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে। তাই গরমের সময় মেয়োনিজ খাওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাস্তার ফাস্ট ফুড বা খোলা পরিবেশে তৈরি মেয়োনিজে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। সঠিক সংরক্ষণ না থাকলে এই সস দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত তেল ও ক্যালোরির প্রভাব

মেয়োনিজে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ তেল থাকে। ফলে এটি অত্যন্ত উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার। নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। যারা স্বাস্থ্য সচেতন বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য মেয়োনিজ একটি ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য।

Advertisement

পুষ্টির ঘাটতির কারণ

কাঁচা ডিমে থাকা ‘অ্যাভিডিন’ নামক প্রোটিন শরীরে ভিটামিন বি৭ বা বায়োটিন শোষণে বাধা দেয়। এর ফলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বায়োটিনের অভাবে চুল পড়া, ত্বকের সমস্যা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। নিয়মিত মেয়োনিজ খাওয়ার ফলে এই সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

অ্যালার্জির সম্ভাবনা

কিছু মানুষের শরীর কাঁচা ডিমের প্রতি সংবেদনশীল। তাদের ক্ষেত্রে মেয়োনিজ খেলে ত্বকে চুলকানি, ফুসকুড়ি, এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যবিধির অভাব ও বাড়তি ঝুঁকি

খাদ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় রাস্তার দোকান বা ছোট রেস্টুরেন্টে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেয়োনিজ তৈরি করা হয় না। অপরিষ্কার পরিবেশ, নিম্নমানের উপাদান এবং সঠিক সংরক্ষণের অভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

মেয়োনিজে পরিবর্তে যা খেতে পারেন

মেয়োনিজের পরিবর্তে টকদই, ম্যাশ করা অ্যাভোকাডো, ক্রিম চিজ বেছে নিতে পারেন। টকদইয়ে থাকে প্রোবায়োটিক, যা হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং পেটের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি হালকা, কম ক্যালোরিযুক্ত এবং গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতেও সহায়ক। অন্যদিকে, অ্যাভোকাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী।

Advertisement

ম্যাশ করে স্যান্ডউইচ বা বার্গারে ব্যবহার করলে এটি স্বাদেও ভিন্নতা আনে। ক্রিম চিজও একটি ভালো বিকল্প, তবে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত, কারণ এতে ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

মেয়োনিজের স্বাদ যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, এর অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই স্বাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রেখেই খাওয়া উচিত। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, গালফ নিউজ, হেলথ লাইন

আরও পড়ুন: গরমে ভাত না রুটি, কোনটি শরীরের জন্য ভালো? আদা-মধু-কালিজিরায় মিলতে পারে বড় উপকার 

এসএকেওয়াই