আন্তর্জাতিক

শেষ দফা ভোটের আগে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষ, সিআইএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ

শেষ দফার ভোটের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়ার জগদ্দল এলাকা। সেখানকার আটচালা বাগানে তৃণমূল কংগ্রেস-বিজেপির তীব্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

Advertisement

জগদ্দল থানার সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) জগদ্দলের বিজেপির প্রার্থী সাবেক পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার জগদ্দল থানায় বেশকিছু দুষ্কৃতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে যান। সে খবর পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা জগদ্দল থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যারাকপুরের সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে নোয়াপাড়ার বিজেপির প্রার্থী বাহুবলী নেতা অর্জুন সিং সেখানে উপস্থিত হলে থানার সামনেই দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।অশান্তি থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও গভীর রাতে ভাটপাড়ার বিজেপির প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় বোমা এবং চালানো হয় গুলি।

Advertisement

এতে পবন সিংয়ের নিরাপত্তায় থাকা সিআইএফ- এর এক জওয়ানের পায়ে গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পবন সিং বলেন, গতকাল একটি মিটিং চলছিল। ওই মিটিং লক্ষ্য করে দুষ্কৃতিরা হামলা চালায়। তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে দেখা যাচ্ছে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার বাড়ির নিচে বোমা এবং গুলি চালানো হয়েছে। আমার সুরক্ষায় থাকা সিআইএফ এর এক কর্মীর পায়ে গুলি লেগেছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

যদিও এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষের ভাটপাড়ার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কোনো সংঘর্ষই হয়নি। যেহেতু আগামীকাল প্রচারের শেষ দিন, আমরা ভাটপাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার চালাচ্ছিলাম। এরপর আমরা খবর পাই যে, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মীরা আমাদের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে আমাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এরপর আমরা থানায় অভিযোগ করতে আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের ওপর সাবেক সংসদ সদস্য অর্জুন সিং এসে হামলা চালায়। তারপরেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

এই ঘটনার পর এরই মধ্যে জগদ্দল থানার পুলিশ ভাটপাড়া পৌরসভার তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর গোপাল রাউতসহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে আটক করেছে। পুরো এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে।

Advertisement

ডিডি/টিটিএন