অন্ধকার ঘর, হঠাৎ শব্দ, অজানা কিছু উপস্থিতির ইঙ্গিত - ভয়ের সিনেমা দেখতে অনেকেই পছন্দ করেন। কারও কাছে এটি বিনোদন, কারও কাছে রোমাঞ্চ। কিন্তু একের পর এক ভয়ংকর সিনেমা দেখা কি শুধু মজা, নাকি এটি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে?
Advertisement
মাঝেমধ্যে ভয়ের সিনেমা দেখা বেশিরভাগ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং অনেকেই এতে উত্তেজনা ও আনন্দ পান। তবে অতিরিক্ত বা নিয়মিত ভয়ের কনটেন্ট দেখলে কিছু মানসিক ও স্নায়বিক প্রভাব দেখা দিতে পারে।
মস্তিষ্কে কী ঘটে?ভয়ের সিনেমা দেখার সময় মস্তিষ্ক অনেক সময় বাস্তব বিপদের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখায়। তখন অ্যামিগডালা সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা ভয় শনাক্ত করা ও বিপদের সংকেত পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। ফলে শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন -
১. হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া২. ঘাম হওয়া৩. শ্বাস দ্রুত হওয়া৪. পেশি টানটান হয়ে যাওয়া
Advertisement
এগুলো মূলত শরীরের ফাইট অর ফ্লাইট প্রতিক্রিয়া।
অতিরিক্ত দেখলে কী প্রভাব হতে পারে?১. উদ্বেগ বাড়তে পারেযাদের আগে থেকেই দুশ্চিন্তা বা ভয় বেশি, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হরর কনটেন্ট উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
২. ঘুমের সমস্যারাতে ভয়ের সিনেমা দেখলে মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় সতর্ক অবস্থায় থাকতে পারে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, দুঃস্বপ্নও হতে পারে।
৩. বাস্তব ভয় বাড়তে পারেঅন্ধকার, একা থাকা বা নির্দিষ্ট শব্দ নিয়ে অযৌক্তিক ভয় তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
Advertisement
৪. স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া ক্লান্ত করে দিতে পারেবারবার তীব্র উত্তেজনা ও ভয় অনুভব করলে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।
তবে সবাই কি একইভাবে প্রভাবিত হন?না। কেউ ভয়ের সিনেমা দেখে আনন্দ পান, কারণ মস্তিষ্ক তখন ডোপামিন ও অ্যাড্রেনালিনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া অনুভব করে। আবার কেউ একই কনটেন্টে অস্বস্তি অনুভব করেন। এটি ব্যক্তিভেদে আলাদা।
কারা একটু সতর্ক থাকবেন?>> যাদের উদ্বেগের সমস্যা আছে>> অনিদ্রায় ভোগেন>> ছোট বয়সী শিশু>> ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তি
কীভাবে ব্যালান্স রাখবেন?যদি রোমাঞ্চর জন্য দেখতেই চান, তবে – >> রাতে না দেখে দিনের দিকে দেখুন>> ঘুমের আগে হরর কনটেন্ট এড়িয়ে চলা ভালো>> পরিমাণে সীমা রাখুন>> একটানা অনেকগুলো ভয়ের সিনেমা না দেখাই ভালো>> নিজের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করুন>> দেখার পর যদি দীর্ঘ সময় অস্বস্তি থাকে, বিরতি নিন
ভয়ের সিনেমা সবসময় ক্ষতিকর নয়, তবে অতিরিক্ত হলে মস্তিষ্ককে দীর্ঘ সময় সতর্ক অবস্থায় রাখতে পারে। তাই বিনোদন উপভোগ করুন, তবে নিজের মানসিক স্বস্তিকেও গুরুত্ব দিন।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, স্লিপ ফাউন্ডেশন
এএমপি/জেআইএম