লাইফস্টাইল

কাজের চাপের মেজাজ বাসায় দেখানো কি স্বাভাবিক

অফিসে দিনভর চাপ, ডেডলাইন, মিটিং - সব সামলে অনেকেই খিটখিটে মেজাজ নিয়ে বাসায় ফেরেন। তখন ছোট ছোট বিষয়েও বিরক্তি ও রাগ আসে। কিন্তু সেই বিরক্তি পরিবারের সদস্য – সঙ্গী ও সন্তানের ওপর বিস্ফোরিত হওয়া কি স্বাভাবিক?

Advertisement

এটি খুবই সাধারণ ঘটনা হলেও স্বাভাবিক বলে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।

কেন এমনটা হয়

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সারাদিনের মানসিক চাপ আমাদের মস্তিষ্কে জমা হতে থাকে। অফিসে অনেক সময় আমরা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে চলি - রাগ, হতাশা বা ক্লান্তি চেপে রাখি।

বাড়িতে ফিরে সেই নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ঢিলে হয়ে যায়, কারণ এটি আমাদের সেফ স্পেস।

Advertisement

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দীর্ঘ সময় স্ট্রেসে থাকলে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে, ফলে ছোট বিষয়েও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সেফ স্পেস কীভাবে দায়ী?

বাড়ি এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা নিজেদের মতো থাকতে পারি। তাই অনেক সময় না চাইলেও কাছের মানুষদের সামনেই জমে থাকা চাপ বের হয়ে আসে।

কিন্তু সমস্যা হলো - আপনার এই আচরণে পরিবারের অন্য সদস্যরা কষ্ট পেতে পারেন, বিশেষ করে সঙ্গী বা সন্তানরা।

Advertisement

সম্পর্কের ওপর প্রভাব

নিয়মিত কাজের চাপের মেজাজ বাসায় দেখালে ধীরে ধীরে সম্পর্কের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে -

১. আবেগগত দূরত্ব তৈরি হয়যখন একজন সবসময় বিরক্ত বা চুপচাপ থাকেন, তখন অন্যজন ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে শুরু করেন। এতে সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যায়।

২. ভুল বোঝাবুঝি বাড়েআপনার স্ট্রেস অন্যজন বুঝতে না পেরে ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারেন। এতে অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া বা মনোমালিন্য তৈরি হয়।

৩. নিরাপত্তাবোধ কমে যায়বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, বাবা-মায়ের অস্থির আচরণ তাদের মানসিক নিরাপত্তাবোধকে প্রভাবিত করতে পারে।

৪. যোগাযোগ কমে যায়যখন বাসার পরিবেশে সবসময় টানটান উত্তেজনা থাকে, তখন স্বাভাবিক কথাবার্তা বা খোলামেলা আলোচনা কমে যায়।

এটি কি ক্ষতিকর হতে পারে?

দ্য গটম্যান ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, নেতিবাচক আবেগের পুনরাবৃত্তি দাম্পত্য সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। মাঝেমধ্যে এমন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এটি যদি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শুধু ব্যক্তির নয়, তার পারিবারিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলে।

কীভাবে সামলাবেন

কাজের চাপকে পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়, তবে কিছু ছোট অভ্যাস পরিস্থিতি সহজ করতে পারে -

১. ট্রানজিশন টাইম রাখুনঅফিস থেকে বাসায় ফেরার পর নিজেকে ১০-১৫ মিনিট সময় দিন। চুপচাপ বসা, গান শোনা বা একটু হাঁটা মুড বদলাতে সাহায্য করে।

২. নিজের অনুভূতি জানানচুপচাপ রাগ দেখানোর বদলে বলুন - আজ একটু ক্লান্ত লাগছে। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে।

৩. শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুনকয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে পারে।

৪. সীমা নির্ধারণ করুনঅফিসের কাজ বাসায় নিয়ে আসার অভ্যাস থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করুন।

কাজের চাপের প্রভাব বাসায় এসে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সচেতন না হলে এটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াতে পারে।

তাই নিজের ক্লান্তি ও আবেগকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু সেই সঙ্গে প্রিয়জনদের প্রতিও সংবেদনশীল থাকুন। কারণ, দিনের শেষে বাসাই হওয়া উচিত আপনার শান্তির জায়গা, চাপের নয়।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, দ্য গটম্যান ইনস্টিটিউট, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/জেআইএম