হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের কাবা শরিফ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্বে থেকে ইহরাম বাঁধতে হয় যে স্থানগুলো নবীজির (সা.) হাদিস দ্বারা নির্ধারিত আছে। ওই জায়গাগুলোকেই মিকাত বলা হয়। হারাম এলাকার চর্তুদিকেই ওই দিকের দেশ থেকে আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য মিকাত বা ইহরাম বাঁধার স্থান রয়েছে।
Advertisement
এই স্থানটি এখন আবইয়ারে আলি নামে পরিচিত। এটি মসজিদে নববি থেকে ১৩ কিলোমিটার এবং মক্কা শহর থেকে ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মদিনাবাসী এবং এ পথ দিয়ে যারা আসে তারা এখান থেকে ইহরাম বাধে। মক্কা শহর থেকে এটাই সবচেয়ে দূরতম মিকাত।
২. আল-জুহফাএ জায়গাটি লোহিত সাগর থেকে ১০ কিলোমিটার ভেতরে রাবেগ শহরের কাছে অবস্থিত। জুহফাতে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাবেগ নামক স্থান থেকে এখন লোকেরা ইহরাম পরে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এখন এটি একটি বড় শহর। জম্মুম উপত্যকার পথ ধরে মক্কা শহর থেকে এ স্থানটি ১৮৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সিরিয়া, লেবানন, জর্দান, ফিলিস্তিন, মিশর, সুদান, মরক্কো, আফ্রিকার দেশসমূহ, সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় কিছু এলাকা আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা এ জায়গা থেকে ইহরাম বাঁধেন।
৩. কারনুল মানাযিলকারনুল মানাযিল এখন সাইলুল কাবির নামে প্রসিদ্ধ। সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতসহ এটি এখন একটা বড় গ্রাম। মক্কা থেকে এর দূরত্ব ৭৮ কিলোমিটার। কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, ইরাক, ইরানসহ উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ, সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম ও তায়েফ থেকে আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা এ জায়গা থেকে ইহরাম বাঁধেন।
Advertisement
ইয়ালামলাম মক্কা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এলাকাটি সা’দিয়া নামেও পরিচিত। ইয়ামেন, বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ পূর্বাঞ্চলীয়র দেশসমূহ থেকে আগত হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা এ জায়গা থেকে ইহরাম বাঁধেন।
৫. যাতুইরকযাতুইরক মক্কা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট না থাকায় এটি এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। এটা ছিল ইরাকবাসীর মিকাত। তারা এখন কারনুল মানাযিল তথা সাইলুল কাবিরকে মিকাত হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।
বাংলাদেশি হজ-ওমরাহ পালনকারীদের মিকাতবাংলাদেশ থেকে হজ-ওমরাহ পালনের জন্য যারা যাবেন তাদের মিকাত ইয়ালামলাম। আকাশপথে গেলে উড়োজাহাজ ইয়ালামলাম অতিক্রম করার আগেই ইহরাম বেঁধে ফেলতে হবে। উড়োজাহাজ ইয়ালামলামের কাছাকাছি পৌছলে সাধারণত উড়োজাহাজ-কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, তখনই ইহরাম বাঁধতে হয়। অনেকে উড়োজাহাজে ওঠার আগেই ইহরাম বেঁধে নেন।
মক্কায় অবস্থানকারীরা যে জায়গা থেকে ইহরাম বাঁধবেনমক্কার অধিবাসীরা যদি ওমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধতে চান, তাহলে তাদের মিকাতে যেতে হয় না। তারা হারামের সীমার বাইরে অবস্থিত মসজিদে আয়েশায় গিয়ে ইহরাম বাঁধতে পারেন। মসজিদটি তানইম এলাকায় অবস্থিত।
Advertisement
বিদায় হজের সফরে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) নবীজির নির্দেশে ওমরাহর জন্য মক্কা থেকে তানইমে গিয়ে ইহরাম বেঁধেছিলেন। এ কারণে সেখানে নির্মিত মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে তার নামে।
যারা মক্কার স্থায়ী বাসিন্দা নন, ব্যবসা অথবা অন্য কোন কারণে মক্কায় অবস্থান করছেন, তারা যদি ওমরাহ করতে চান অথবা মক্কার বাইরে থেকে হজ-ওমরাহর জন্য এসে হজ-ওমরাহ করে ইহরাম খুলে ফেলার পর যদি আবার নফল ওমরাহ করতে চান, তারাও মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবেন। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী মক্কায় অবস্থানকারী যে কোনো ব্যক্তির জন্যই তানইম এলকার মসজিদে আয়েশা ইহরাম বাঁধার সুযোগ রয়েছে এবং এটাই উত্তম।
তবে যারা মক্কার বাইরে থেকে ওমরাহ পালন করার জন্য মক্কায় যাবেন, তারা নির্ধারিত মিকাত থেকেই ইহরাম বাঁধবেন। তাদের জন্য মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম বাঁধা জায়েজ হবে না।
ওএফএফ