বাংলাদেশে ডিজিটাল খাত দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও তা প্রায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কর কাঠামোর বাইরে বলে মনে করছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। সংগঠনটি বলছে, গুগল, মেটা, অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আয় করে, কিন্তু কর পরিশোধ করে সীমিত।
Advertisement
এ অবস্থায় বিদেশি মালিকানাধীন সব ডিজিটাল ফার্মের ট্যাক্স বাধ্যতামূলক করা ও পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূসক কেটে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) একটি ডিজিটাল ইউনিট তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।
সংগঠনটি বলছে, ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল সেবা ক্রয়-বিক্রয় মনিটরিং করতে কাজ করবে এই ডিজিটাল ইউনিট। পাশাপাশি নাগরিকের কর ফাঁকি রোধে ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ফাইন্যান্সিয়াল আইডেন্টি সিস্টেম চালুর প্রস্তাব করেছে সমিতি।
Advertisement
আলোচনায় সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ মাসুদ আলম এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশনের ট্যাক্স আদায় করা উচিত। ডিজিটাল ট্যাক্সের ভিত্তিটা আরও বাড়ানো যায়। ফেসবুক, মেটা, গুগল এদের প্রচুর প্রোডাক্ট বাংলাদেশে এখন প্রতিনিয়ত কিনছে। আমি ছোট্ট একটি উদাহরণ দিচ্ছি, চ্যাটজিপিটির ‘গো’ সিস্টেম যেটা অনলি ৫ দশমিক ৭৫ ডলার। এতে আমি কিন্তু শূন্য দশমিক ৭৫ ডলার ট্যাক্স দিচ্ছি অন্য দেশকে, আমার দেশকে না। অথচ সার্ভিস কিনছি আমি বাংলাদেশে বসে। তাহলে এক্ষেত্রে গুগলের সঙ্গে তাদের যেহেতু জিওগ্রাফিক ওয়াইজ সার্ভিস বা মার্কেট সেগমেন্টেশন করা আছে, আপনি এক্সপ্লোর করেন বাংলাদেশে কী পরিমাণ চ্যাটজিপিটির এই প্রিমিয়াম সার্ভিসটুকু নিচ্ছে। মিডিয়াম রেঞ্জের ক্রেতারা হয়তোবা ২০ ডলারের সার্ভিস নিচ্ছে। গুগলকে বলতে হবে ট্যাক্স দাও।
আরও পড়ুন৭ মে উৎপাদনে ফিরবে ইস্টার্ন রিফাইনারি শর্তসাপেক্ষে এক মাসের উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে ব্যাংক
তিনি বলেন, একদম ক্ষুদ্র আকারে সেটুকু শুরু করা যেতে পারে এই ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে। আর ফেসবুকের ক্ষেত্রে যত ধরনের লেনদেন হচ্ছে, বিশেষ করে স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলো, অন্যান্য ডিজিটাল সেবাগুলোর ক্ষেত্রে ওই অর্থে বর্তমানে কোনো কর নেই। গবেষণা করে ডেটা অ্যানালিটিক্স করে কীভাবে ট্র্যাক করা যায়, এই ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমের কর যদি আরও বাড়ানো যায়, তাহলে এক্ষেত্রে আমরা আশা করছি যে কর বাড়বে।
Advertisement
অর্থনীতি সমিতি বলছে, বাংলাদেশে ভাড়া বাসা থেকে আয় হয় বেশ বড় অংকের। অথচ এ খাতে কর প্রায় অদৃশ্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাড়ার টাকা আয় নগদে পরিশোধ করা হয় বলে আনুষ্ঠানিকভাবে করযোগ্য আয়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শন করা হয় না এবং কর দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাবনা অনুসারে, একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে- সব ভাড়া চুক্তি ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা, ভাড়াটিয়া পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন ভাড়াটিয়ার বিদ্যুৎ/গ্যাস বিল ও এনআইডি সংযুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ওপর ভাড়ার ক্ষেত্রে উইথহেল্ড ট্যাক্স (উৎসে কর) পদ্ধতি কার্যকর করা।
এদিন এসএমই ফাউন্ডেশন তাদের বাজেট প্রস্তাবনায় এমএসএমই খাতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘প্রেফারেন্সিয়াল ট্যাক্স রেজিম’ বা বিশেষ কর কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব করেছে। বার্ষিক ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাসিক ভ্যাট রিটার্নের পরিবর্তে ৬ মাস অন্তর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান করার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া এক কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে ভ্যাট অব্যাহতি এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অডিটের সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করার প্রস্তাব জানানো হয়েছে।
আমদানি করা ফ্রোজেন বাসা বা পাঙাস মাছের ওপর ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি (শুল্ক) ও ২০ শতাংশ আরডি আরোপ, হস্তশিল্প ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের প্রসারে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা সম্প্রসারণ ও রপ্তানিমুখী পাটজাত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এইচপিএলসি মেশিন আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
এসএম/কেএসআর