শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি এবং ভার্চ্যুয়াল কোর্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আইনজীবীরা এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
Advertisement
এর আগে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে এবং সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে বলে ২০ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নির্দেশনা ২২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ২২ ও ২৩ এপ্রিল ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রম চলে।
তবে সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই আইনজীবীদের শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানিয়ে ২১ এপ্রিল মানববন্ধন করেন আইনজীবীদের একাংশ। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল ‘আয়োজনে: সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্যবৃন্দ’। আগের ধারাবাহিকতায় ২৩ এপ্রিল কালো পতাকা নিয়ে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আইনজীবীদের একাংশ। সেদিন নিয়মিত আদালত চালু না হলে ২৮ এপ্রিল অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা।
Advertisement
সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলা এবং সামনের চত্বরে এদিন সমবেত হন আইনজীবীরা। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে মিছিল নিয়ে সমিতি ভবন প্রদক্ষিণ করেন তারা। পরে মিছিল নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত (অ্যানেক্স) ভবনের সামনে গিয়ে ব্রিফিং করে স্বাক্ষর সংগ্রহসহ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, শাহ আহমেদ বাদল, এম আশরাফুল ইসলাম, আনিসুর রহমান রায়হান, এম.আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে তিনটি দাবি তুলে ধরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘আপিল বিভাগসহ হাইকোর্টে কোনো ক্যামেরা ট্রায়াল হবে না; হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে সাংবাদিকেরা যেন প্রবেশাধিকার পান।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশের সঙ্গে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন জড়িত। এর সঙ্গে রাইট টু ইনফরমেশন জড়িত।…বিচার বিভাগের সুবিধার্থে সাংবাদিকদের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টে প্রবেশাধিকার লাগবে। প্রকৃত তথ্য না দিতে পারলে গুজবের ডালপালা ছড়াবে, যা বিচার বিভাগ, গণতন্ত্র, আইনের শাসনের পরিপন্থী।
এফএইচ/এমএমকে
Advertisement