খাবার খাওয়ার পর কারও দ্রুত ক্ষুধা লাগে, কারও আবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। কেউ বলেন - আমার হজম খুব দ্রুত, আবার কেউ ভাবেন ধীরে হজম হওয়াই বুঝি ভালো। কিন্তু আসলে শরীরের হজম প্রক্রিয়া খুব দ্রুত হওয়া ভালো, নাকি ধীর হওয়া ভালো?
Advertisement
হজমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হলো স্বাভাবিক ও সুষম গতি। খুব দ্রুত বা খুব ধীর - দুই অবস্থাই কখনও কখনও সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
দ্রুত হজম মানে সব সময় ভালো নয়খাবার খুব দ্রুত পাকস্থলী ও অন্ত্র পেরিয়ে গেলে শরীর সব পুষ্টি ঠিকভাবে শোষণ করার সময় নাও পেতে পারে। এতে দ্রুত ক্ষুধা লাগে, বারবার খেতে ইচ্ছে করে, রক্তে শর্করার ওঠানামাও বাড়তে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, আইবিএস বা স্ট্রেসের কারণে এমন হতে পারে।
ধীর হজমও সব সময় ভালো নয়খুব ধীরে হজম হলে পেট ভার লাগা, গ্যাস, ঢেকুর, অস্বস্তি বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস, কম নড়াচড়া, পানির ঘাটতি বা কম ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।
Advertisement
স্বাভাবিক হজম বলতে বোঝায় - খাবার খাওয়ার পর আরাম লাগা, অতিরিক্ত ফাঁপা ভাব না হওয়া, নিয়মিত পায়খানা হওয়া, অতিরিক্ত দ্রুত ক্ষুধা না লাগা এবং শরীরে শক্তি থাকা। অর্থাৎ শরীর যেন খাবার ভেঙে পুষ্টি নিতে পারে, আবার অস্বস্তিও না হয়।
কোন খাবার হজমের গতি প্রভাবিত করে?ফাইবারযুক্ত খাবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি হজম ধীরে ও স্থিতিশীল করে, যা অনেক সময় উপকারী। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা শুধু সাদা কার্বোহাইড্রেট দ্রুত হজম হয়ে ক্ষুধা বাড়াতে পারে।
কী করলে হজম ভালো থাকবে?ধীরে ধীরে খাওয়া, ভালোভাবে চিবানো, নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত পানি পান, ফাইবার খাওয়া এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?যদি দীর্ঘদিন পেট ব্যথা, অস্বাভাবিক কোষ্ঠকাঠিন্য, বারবার পাতলা পায়খানা, দ্রুত ওজন কমা বা খাওয়ার পর তীব্র অস্বস্তি থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Advertisement
সব মিলিয়ে, হজম খুব দ্রুত বা খুব ধীর - দুটোর কোনোটাই আদর্শ নয়। শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো ছন্দময়, স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হজম প্রক্রিয়া।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস
এএমপি/এএসএম