স্মার্ট টিভি এখন আর বিলাসিতা নয়, প্রায় প্রতিটি ঘরেই ইন্টারনেট-সংযুক্ত এই ডিভাইস জায়গা করে নিয়েছে। সিনেমা, সিরিজ, ইউটিউব সবকিছু এক স্ক্রিনে পাওয়ার সুবিধা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে অজানা এক ঝুঁকি। অনেকেই বুঝতেই পারেন না, তাদের দেখার অভ্যাস নীরবে রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে।
Advertisement
এই পর্যবেক্ষণের পেছনে কাজ করে একটি প্রযুক্তি, যার নাম অটোমেটিক কনটেন্ট রেকোগনিশন। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা যে টিভির পর্দায় কী চলছে তা নির্দিষ্ট সময় পরপর শনাক্ত করতে পারে। স্ক্রিন থেকে ছোট ছোট অংশ সংগ্রহ করে একটি বিশাল ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় আপনি ঠিক কী দেখছেন।
চমকপ্রদ বিষয় হলো, এটি শুধু টিভির নিজস্ব অ্যাপেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি যদি সেট-টপ বক্স, গেম কনসোল মাধ্যমে ল্যাপটপ ব্যবহার করেন, তবুও এই প্রযুক্তি আপনার কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারে। স্যামসাং, এলজি, সনি, টিএসএল -এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের অনেক মডেলেই এই ফিচার চালু অবস্থায় থাকে।
এর ফলে তৈরি হয় আপনার দেখার অভ্যাসের একটি বিস্তারিত প্রোফাইল। আপনি কী দেখেন, কতক্ষণ দেখেন, কোন অংশ এড়িয়ে যান এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এর ভিত্তিতে আপনাকে লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, যা অনেক সময় অস্বস্তিকরও মনে হতে পারে।
Advertisement
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই প্রক্রিয়াটি বেশিরভাগ সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই চলে। অনেকেই জানেন না যে তাদের টিভি এমন তথ্য সংগ্রহ করছে। এরই মধ্যে কিছু দেশে এই বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্কও দেখা গেছে।
তবে কিছু সহজ পদক্ষেপ নিলেই আপনি নিজের প্রাইভেসি অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
টিভির সেটিংসে গিয়ে প্রাইভেসি বা সিস্টেম অপশনের মধ্যে এই ফিচারটি খুঁজে বের করতে হবে ভিউইং ডাটা, কনটেন্ট রেকোগনিশন বা অনুরূপ নামে অপশনটি বন্ধ করে দিলে ডাটা সংগ্রহ অনেকটাই কমে যাবে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডে এই অপশনের নাম ভিন্ন হতে পারে, তাই প্রয়োজনে ম্যানুয়াল দেখে নেওয়া বা কাস্টমার সাপোর্টে যোগাযোগ করা ভালো। নতুন টিভি কেনার আগে এর প্রাইভেসি সেটিংস সম্পর্কে জানা এবং অপ্রয়োজনীয় ডেটা শেয়ারিং বন্ধ রাখা এখন সময়ের দাবি। আরও পড়ুনস্মার্ট টিভি কেনার আগে যা খেয়াল রাখবেনস্মার্ট টিভির বিদ্যুৎ বিল কমাবেন যেভাবেকেএসকে
Advertisement