লাইফস্টাইল

৪৫০ ঘণ্টার ড্রেসে ইশার জাদু

মেট গালা শুরু হওয়ার আগেই ফ্যাশন দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছেন ইশা আম্বানি। একান্ত প্রি-মেট গালা ডিনারে তার উপস্থিতিই যেন হয়ে উঠেছে এই সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচিত স্টাইল মুহূর্তগুলোর একটি। ম্যাডাম তুসো-এ অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আয়োজনে তিনি হাজির হয়েছিলেন এমন এক পোশাকে, যা নিছক ফ্যাশন নয়; বরং যেন ভারতের বস্ত্র ঐতিহ্যের জীবন্ত ক্যানভাস।

Advertisement

এই অনন্য পোশাকটি ডিজাইন করেছেন খ্যাতনামা ডিজাইনার মনিশ মালহোত্রা। প্রথম নজরে এটি একটি স্ট্র্যাপলেস, ফিটেড সিলুয়েটের গাউন মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে অসাধারণ কারুকাজ ও সাংস্কৃতিক গল্প। পুরো পোশাকটি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ‘বর্ডার’ দিয়ে, সংখ্যায় মোট ২৬টি। প্রতিটি বর্ডার এসেছে ভারতের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের টেক্সটাইল ঐতিহ্য থেকে, যা একত্রে গেঁথে তৈরি করেছে এক অবিচ্ছিন্ন নকশার বয়ান।

স্টাইলিংয়ে ছিলেন আনিতা শ্রফ আদজানি, যিনি পুরো লুকটিকে রেখেছেন এলিগ্যান্ট এবং মিনিমাল। ফলে পোশাকের সূক্ষ্ম কাজগুলোই হয়ে উঠেছে প্রধান আকর্ষণ। এই গাউনের প্রতিটি স্তরে যে নিখুঁততা, তা তৈরি করতে লেগেছে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি সময়, যা সত্যিই এক অসামান্য শ্রম ও নিবেদনকে তুলে ধরে।

ইশার পোশাকটি দেহের গড়নের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই, যা তার ব্যক্তিত্বকে আরও পরিশীলিত করে তুলেছে। গাঢ় লাল, সোনালি, সবুজ ও মাটির রঙের মিশ্রণে তৈরি এই গাউনে রয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার দারুণ সমন্বয়। সঙ্গে ছিল সূক্ষ্ম জুয়েলারি ও সিম্পল মেকআপ, যা পুরো লুকটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে।

Advertisement

আরও পড়ুন: আলো-ছায়ার ক্যানভাসে লাস্যময়ী নুসরাত ফারিয়া বেগুনি শাড়িতে মুগ্ধতা ছড়ালেন বাঁধন

এই লুকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এর গল্প বলার ক্ষমতা। প্রতিটি বর্ডার যেন এক একটি অঞ্চল, এক একটি সংস্কৃতি এবং এক একটি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে এটি শুধু একটি পোশাক নয়, বরং ভারতের সমৃদ্ধ বস্ত্র ঐতিহ্যের এক সৃজনশীল উপস্থাপনা।

ইশা আম্বানি আবারও প্রমাণ করলেন, ফ্যাশন তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যখন তা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্পকে একসঙ্গে ধারণ করে। মেট গালা শুরু হওয়ার আগেই তার এই লুক যেন বলে দিল, স্টাইলের আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে গল্পে আর সেই গল্পই পারে একটি লুককে অবিস্মরণীয় করে তুলতে।

জেএস/

Advertisement