সাহিত্য

আকিরা কুরোসাওয়ার ‘রাশোমন’ ও হেরোডোটাসের উপাখ্যান

মধুসূদন মিহির চক্রবর্তী

Advertisement

জাপানের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা আকিরা কুরোসাওয়ার পিরিয়ড চলচ্চিত্র ‘রাশোমন’ তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। চলচ্চিত্রটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার অর্জন করে। পরে একাডেমি পুরস্কারও লাভ করে। আকিরা কুরোসাওয়ার অসাধারণ নির্মাণে ‘রাশোমন’ বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য হয়। ‘রাশোমন’ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের একটি পরিচিত নাম। ১৯৫০ সালে নির্মিত এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই পশ্চিমা বিশ্বের কাছে জাপানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সত্যিকারের সমাদর লাভ করে। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কুরোসাওয়ার উত্থান আর জাপানের এগিয়ে যাওয়ার শুরু সেই থেকে।

চলচ্চিত্রে দেখা যায়, বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি, একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু আর একজন কাঠুরে বসে আছে একটি ভাঙা দুর্গের দ্বারের নিচে। তুমুল বৃষ্টির মধ্যে আরও একজন লোক উঠে এলো সেই ভাঙা দ্বারের নিচে। ঘটে যাওয়া মারাত্মক ঘটনার বিষয়ে লোকটির সাথে কথা বলছেন ভিক্ষু এবং কাঠুরে। কাঠুরে জঙ্গলে গিয়েছিল কাঠ কাটতে। গিয়ে সে হঠাৎ দেখতে পায় একটি হ্যাট পড়ে আছে। কিছু দূরে সে দেখতে পায় একটি শবদেহ। এরপরে আদালতে কাঠুরেকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য তলব করা হয়। কারণ খুন হয়ে যাওয়া ব্যক্তিটির হত্যার অভিযোগে একজন ডাকাতকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৌদ্ধ ভিক্ষুও আদালতে গেলেন সাক্ষী দিতে। কারণ তিনি মৃত লোকটিকে ওই পথ দিয়ে যেতে দেখেছিলেন। লোকটির ঘোড়ার ওপরে বসা ছিল তার স্ত্রী। নিচে অস্ত্রসহ লোকটি ঘোড়াটিকে হাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। লোকটি ছিল একজন সামুরাই। ভিক্ষু এবং প্রথম লোকটি তাদের সাক্ষী দেওয়ার পর ঘটনার শুরু হয়। ধৃত ডাকাতেরও জবানবন্দি নেওয়া হয়। মৃত লোকটির স্ত্রী এসে সাক্ষ্য দেয় অন্যরকম। ভিক্ষু এবং কাঠুরে কারুরই অপর ওই দুজনের কথা বিশ্বাস হয় না। তাই তারা যান একজন মন্ত্র বিশারদ তান্ত্রিকের কাছে। তান্ত্রিক তার নিজের তন্ত্র-মন্ত্রের বিদ্যার সাহায্যে মৃত আত্মার সাথে কথা বলতে পারেন। সেভাবেই মৃত সামুরাইয়ের আত্মাকে আনা হয়। মৃত সামুরাইয়ের আত্মা এসে সম্পূর্ণ ঘটনাটি একদম অন্যভাবে বয়ান করে। এদিকে দর্শক পড়ে যায় মহা ঘোরের মধ্যে। দর্শকের মনের সন্দেহ কোনোভাবেই কাটে না। একের পর এক শিউরে ওঠার পালা দর্শকের। সত্য, মিথ্যা, কামনা, আকুতির বেড়াজালে কখন যে মস্তিষ্ক ও চোখজোড়া আটকা পড়ে গেছে টের পাওয়া যায় না। দর্শকের মনোজগত নিয়ে যে খেলাটা শুরু করেন পরিচালক, তাতে তিনি শতভাগ সফল।

Advertisement

আমি যখন প্রথমবার রাশোমন চলচ্চিত্রটি দেখেছি; তখন বুঝিনি কিন্তু গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাসের রচিত একটি উপাখ্যান পাঠের পর উপলব্ধি করি যে, উপাখ্যানটি ‘রাশোমন’র গল্পের সাথে অনেকটা মিলে যায়। রাজা ক্যান্ডুলেস তাঁর রানিকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তিনি মনে করতেন, পৃথিবীতে তার স্ত্রীর মতো সুন্দরী রমণী আর নেই। তাঁর ধারণার পরিনাম হয়েছিল অপ্রত্যাশিত এবং ভয়ানক। রাজার দেহরক্ষীদের মধ্যে একজন ছিল রাজার অত্যন্ত প্রিয়। সেই দেহরক্ষীর নাম গাইজেস। ক্যান্ডুলেস যে তার সাথে কেবলমাত্র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই আলোচনা করতেন তা নয় বরং প্রায়ই তাকে নিজ স্ত্রীর রূপের স্তুতিও শোনাতেন।

আরও পড়ুন উত্তর উপনিবেশবাদ / ফিলিস্তিন ও ব্রাজিলের কবিতায় অস্তিত্বের সংকট

একদিন বেকুব রাজা ক্যান্ডুলেস তাঁর দেহরক্ষী গাইজেসকে বলেই বসলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি যখন বলি আমি আমার স্ত্রীকে কত ভালোবাসি, তুমি তা বিশ্বাস করো না। মানুষ সব সময়ই শোনা কথার চাইতে স্বচক্ষে দেখে বেশি বিশ্বাস করে। কাজেই আমার কথামতো কাজ করো। ওকে নগ্ন অবস্থায় দেখার জন্য এক উপায় খুঁজে বের করো।’গাইজেস ভয়ে চিৎকার করে উঠলো। ‘হুজুর! কি অনুচিত কথা! আপনি কি চান রানির গায়ে যখন কোনো বস্ত্র থাকবে না; তখন আমি তাঁর দিকে তাকাবো? না না, এ হতে পারে না! আপনি জানেন, লোকে নারীদের সম্বন্ধে কী বলে? ‘শরীরে বস্ত্র নেই তো তার আবরুও নেই!’ আমাদের উচিত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। ভালো কি, মন্দ কি তা স্থির হয়েছে বহুকাল আগেই। মানুষের কর্তব্য হচ্ছে তার নিজের কাজে মনোযোগী হওয়া। আপনার রানি যে সবচেয়ে সুন্দরী রমণী, এতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আমি আপনার কাছে মিনতি করছি, আমাকে অমন গর্হিত কাজ করতে বলবেন না।’

এভাবে সে রাজার আমন্ত্রণ এড়িয়ে যাবার জন্য চেষ্টা করে। এ প্রস্তাব গ্রহণ করলে তার ফল যে কী হতে পারে, তা-ই ভেবে গাইজেসের অতিমাত্রায় ভীতি তৈরি হলো। অবশ্য রাজা তাকে এ নিয়ে বিব্রতবোধ না করতে বললেন। তিনি অভয় দিয়ে বললেন, ‘এতে ভয়ের কিছুই নেই, আমি কিংবা আমার রানি, কারো তরফ থেকেই। আমি তোমার জন্য কোনো ফাঁদ পাতছি না। আর আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি যে, আমার রানি তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমি এমন ব্যবস্থা করবো, যাতে সে জীবনেও জানতে পারবে না যে, তুমি তাকে গোপনে দেখেছো। শোনো, আমি তোমাকে শয়নকক্ষের দরজার আড়ালে লুকিয়ে রাখবো। রানি আমার পিছু পিছু আসবে বিছানায়। দরজাটির কাছেই একটি চেয়ার আছে; সে তার পরিধেয় বস্ত্রগুলো একে একে খুলে রাখবে ওই চেয়ারের ওপর। তুমি স্পষ্টভাবে দেখতে পারবে তাকে। তারপর সে যখন তোমার দিকে পিঠ করে চেয়ার থেকে বিছানার দিকে এগোবে, তখন তুমি সন্তর্পণে বেরিয়ে যাবে দরজা দিয়ে। লক্ষ্য রাখবে, সে যেন তোমাকে ধরে না ফেলে।’

গাইজেস রাজার অনুরোধ এড়াতে পারলো না। রাত হলে পর, কথামতো ক্যান্ডুলেস তাকে নিয়ে এলেন তাঁর নিজ শয়নকক্ষে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কামরায় এসে প্রবেশ করলেন রানি। গাইজেস দেখতে পেলো রানি তার বস্ত্রগুলো গা থেকে খুলে চেয়ারের ওপর রাখছেন, তারপর যখন তিনি ঘাড় বাঁকিয়ে পেছন দিকে চেয়ে বিছানায় যাবার উপক্রম করছেন, তখনই গাইজেস চুপি চুপি বেরিয়ে পড়ে কামরা থেকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে রানি তাকে দেখে ফেললেন।

Advertisement

রাজার আহাম্মকির বিষয়টি মুহূর্তেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হলেন রানি। তিনি কোনোরকম উচ্চবাচ্য করলেন না, তবে লজ্জায় মর্মাহত হলেন। এমনকি তিনি যে কিছু দেখেছেন তা-ও প্রকাশ করলেন না। বরং এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তিনি অন্তরে অন্তরে শপথ করলেন। কারণ লিডীয়ানদের নৈতিকতা অনুযায়ী, কোনো পরপুরুষকেও উলঙ্গ দেখা অত্যন্ত অশ্লীল কাজ বলে গণ্য হয়ে থাকে, আর নারীর আসন তো আরও বেশি শ্রদ্ধার।

আরও পড়ুন বাংলামূলীয়তা: সাহিত্য-সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার ইতিহাস

তখনকার মতো রানি তাঁর মুখ বন্ধ রাখলেন, তিনি কিছুই প্রকাশ করলেন না। তবে পরদিন সকালে তিনি গাইজেসকে ডেকে পাঠালেন। অবশ্য তার আগেই তিনি যা ঘটতে যাচ্ছে তার জন্য তাঁর সবচেয়ে বিশ্বাসভাজন ভৃত্যদের প্রস্তুত রাখলেন। রানির সঙ্গে দেখা করার জন্যে গাইজেসকে ডেকে পাঠানোতে অস্বাভাবিক কিছুই ছিল না। সুতরাং গাইজেস হুকুম তামিল করলো। কারণ তার বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগেনি যে, আগের রাতের ঘটনা রানি জেনে গেছেন।

সে হাজির হওয়া মাত্রই রানী তাঁকে বললেন, ‘গাইজেস, তোমার জন্য দুটো মাত্র পথ খোলা আছে- এর একটি তুমি বেছে নিতে পারবে। রাজা ক্যান্ডুলেসকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করো, আর আমাকে বানাও তোমার রানি। আর না হয় এক্ষুণি তোমাকে মরতে হবে। যাতে রাজার প্রতি অন্ধ অনুসরণে তুমি যেন আর কখনো তোমার অনধিকার বিষয় দেখার লোভ না করতে পারো। তোমাদের একজনকে অবশ্যই মরতে হবে। হয় এই দুষ্ট ষড়যন্ত্রের জন্য আমার স্বামীকে মরতে হবে অথবা তোমাকে মরতে হবে। কারণ তুমি কপটভাবে আমার বস্ত্রহীন শরীর দেখে ঔচিত্যের সীমা লঙ্ঘন করেছো।’

মুহূর্তের জন্য গাইজেস এতটাই আতঙ্কিত ও বিস্মিত হয়ে পড়ল যে, তার মুখে কোনো কথা সরছিল না। শেষ পর্যন্ত সম্বিত ফিরে পেয়ে সে রানিকে জোড়হাত করে বললো, তিনি যেন তাকে এমন একটি কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য না করেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল হলো না। রানি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে টের পেল যে, সে সত্যি সত্যি বিশাল এক গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে গেছে। হয় তার প্রভুকে হত্যা করতে হবে, নয়তো তার নিজের মরণ নিশ্চিত! সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো। নিজ প্রাণ বাঁচানোর সিদ্ধান্ত। গাইজেস বলল, ‘রানি, আপনি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে বাধ্য করছেন রাজাকে হত্যা করতে। আমাকে এবার বলুন, কী করে তাকে আঘাত হানবো?’জবাবে রানী বললেন, ‘রাজা যখন গভীর ঘুমে থাকবেন, তখনি আমরা তাঁকে আক্রমণ করবো এবং ঠিক সেই জায়গায় তাকে আক্রমণ করবো, যেখানে তিনি আমাকে বিবস্ত্র অবস্থায় তোমাকে দেখিয়েছিলেন।’

আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হলো। রানি গাইজেসকে কোথাও যেতে দিলেন না। বলা যায়, তাকে পালানোর কোনো সুযোগই দিলেন না। এ উভয় সংকট থেকে বাঁচার জন্য ক্যান্ডুলেস এবং গাইজেস এদের দুজনের একজনকে অবশ্য মরতে হবে। রাত নেমে এলে গাইজেস রানিকে অনুসরণ করলো শয়নকক্ষে। রানি আগে থেকেই গাইজেসের হাতে একটা ছুরি দিয়ে সেই একই দরজার আড়ালে তাকে লুকিয়ে রাখলেন। তারপর ক্যান্ডুলেস যখন ঘুমিয়ে পড়লেন; গাইজেস তখন ধীরে ধীরে দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে তাঁকে ধারালো সেই ছুরি দিয়ে আঘাত করল। রাজা ক্যান্ডুলেস সেখানেই লুটিয়ে পড়লেন। তাঁর প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেল। এভাবেই সাধারণ দেহরক্ষী গাইজেস রাজা ক্যান্ডুলেসের সিংহাসন দখল করে এবং রানিকেও বিয়ে করে।

আরও পড়ুন শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের অবিস্মরণীয় অবদান

পরে ডেলফির এক দৈবজ্ঞের দ্বারা তার ক্ষমতা অনুমোদিত হয়। ক্যান্ডুলেসের হত্যায় বিক্ষুব্ধ লিডীয়ানরা যুদ্ধ ঘোষণা করতে তৈরি ছিল। অবশ্য তারা পরে গাইজেসের সমর্থকদের সাথে একমত হয় যে, দৈববাণীর মতে গাইজেস সত্যিই রাজা হলে তাকেই রাজত্ব দেওয়া উচিত। পক্ষান্তরে দৈববাণী যদি তার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তাকে সিংহাসন ফিরিয়ে দিতে হবে হিরাকল বংশের হাতে। দৈববাণী গাইজেসের পক্ষেই হলো। কাজেই তার রাজক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হতে আর কোনো বাধা রইলো না।

আকিরা কুরোসাওয়ার বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র রাশোমনের শেষভাগে এসে গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস রচিত একটি উপাখ্যানে এ পরিণতির মিল দেখা যায়। পৃথিবীতে সবাই স্বার্থপর, সবাই সেরকম আচরণই করে যেরকম করলে তার সুবিধা হয়। রাশোমন চলচ্চিত্রে তান্ত্রিকের মন্ত্রবলে আহুত সামুরাইয়ের আত্মা সাক্ষ্য দেয়, ডাকাত তাজোমারু সামুরাইকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। তারপর তার স্ত্রীকে তার সাথে পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। তার স্ত্রী রাজি হয় এবং সামুরাইকে মেরে ফেলার অনুরোধ করে। কারণ জীবিত দুজন পুরুষের কাছে নিজের লজ্জা প্রকাশ হওয়ার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয় বলে মনে করে সেই নারী। এ আহ্বান শুনে বিস্মিত তাজোমারু রেগে যায়। সে তখন সামুরাইয়ের স্ত্রীকে পায়ের নিচে চেপে ধরে সামুরাইকে শুধায় যে, নারীটিকে মেরে ফেলবে নাকি ছেড়ে দেবে। সেই মুহূর্তে চলচ্চিত্রের দৃশ্য ফিরে আসে মৃত সামুরাইয়ের বর্তমানে। মৃত সামুরাই বলে, সে তাজোমারুর ভাবনায় অভিভূত হয় এবং তাকে প্রায় ক্ষমা করে দেওয়ার মনোভাব তৈরি হয়। এ অবস্থায় সামুরাইয়ের স্ত্রী পালিয়ে যায়, তাজোমারু তাকে ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অবশেষে সে সামুরাইয়ের বাঁধন খুলে দিয়ে চলে যায়। সামুরাই নিজে তখন ড্যাগার বুকে ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করে।

‘রাশোমন’ চলচ্চিত্রের চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি, শৈল্পিক উপস্থাপন, শিল্পীদের সতেজ সাবলীল অভিনয়ে এ চলচ্চিত্র সর্বকালে আবেদনময়। পঁচিশতম অস্কারে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় রাশোমনকে। মজার ব্যাপার হলো, মুক্তির পর অন্যরা সাদরে গ্রহণ করলেও জাপানের সিনেমা সমালোচকরা এটিকে ভালোভাবে নেয়নি। ‘যদি স্বার্থপর না হও, লড়াই করতে পারবে না’-সিনেমার শেষদিকে বলা এমন আরও গোটাকয়েক সংলাপ একবিংশ শতাব্দীতে এসেও জীবন্ত। উপলব্ধি করতে শেখায় যেন মানবসত্তাকে।

এসইউ