প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার খসড়া ফলাফল তৈরির কাজ শেষ। এখন চলছে অধিকতর যাচাই-বাছাই। এ প্রক্রিয়া শেষে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে।
Advertisement
শনিবার (১৩ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তারা জানান, ফলাফলে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে, সেজন্য সার্বিক বিষয়গুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম শেষ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। এরপর ফল প্রকাশ করা হবে।
অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষা পদকসহ নানা কাজ নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ব্যস্ত রয়েছেন। এজন্য বৃত্তি পরীক্ষার ফল তৈরির কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। শিগগির ফল প্রস্তুতের কাজ শেষ হবে। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ফল প্রকাশ করা হবে।
Advertisement
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ফলাফল প্রস্তুত হওয়ার পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর অভিভাবকরা খুব সহজেই অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
অনলাইনে ফল দেখার সবচেয়ে সহজ ও অফিশিয়াল মাধ্যম হলো আইপিইএমআইএস পোর্টাল। এছাড়া, ফল প্রকাশের আগে এসএমএসে ফল জানার নিয়ম জানানো হবে।
আইনি জটিলতার কয়েক দফায় পিছিয়ে গত ১৫-১৮ এপ্রিল পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীদের ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থী।
নির্ধারিত সময়ের (ডিসেম্বর) প্রায় চার মাস পর (এপ্রিলে) অনুষ্ঠিত এ বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে। ঘোষিত সময় পার হলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ফল প্রকাশ করতে পারেনি। এতে ফল পেতে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা বাড়ছে।
Advertisement
জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে শেষ হয়।
এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন)।
বৃত্তি পাবে কতজনপ্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার মোট বৃত্তির সংখ্যা ৮২ হাজার ৫০০টি। অর্থাৎ, মেধাক্রম ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক হিসাবে এ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তির সংখ্যা ৬৬ হাজার ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী- বৃত্তির অনুপাত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রের ৮ঃ১ (প্রতি ৮ জনে একজন) এবং বেসরকারির ক্ষেত্রে ৫.৫ঃ১ (প্রতি সাড়ে ৫ জনে একজন)।
কারা কত টাকা পাবে, কতদিন পাবেশিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বর্তমান বৃত্তির হার অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে।
অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর এ আর্থিক সুবিধা পাবে।
এএএইচ/এএমএ