২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে উরুগুয়ের জার্সির চার তারকা। ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘদিনের এই বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছে ফিফার জার্সি-সংক্রান্ত নীতিমালা। বর্তমান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উরুগুয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে চারটি তারকা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি এসেছে তাদের ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবে। বাকি দুটি তারকা ১৯২৪ ও ১৯২৮ অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্টে স্বর্ণপদক জয়ের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। সেই সময় অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতাকে বিশ্বসেরার আসর হিসেবে গণ্য করা হতো এবং ফিফাও দীর্ঘদিন ধরে এই অর্জনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে এসেছে।
Advertisement
তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বিশ্বকাপ জয়ের সংখ্যা দুই হওয়ায় উরুগুয়ের জার্সিতে চারটি তারকা থাকা উচিত নয়। তাদের মতে, বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিনিধিত্বকারী তারকার সংখ্যা কেবল বিশ্বকাপ শিরোপার সমান হওয়া উচিত।
অন্যদিকে উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জোর দিয়ে বলছে, ফিফার অনুমোদন নিয়েই তারা চার তারকা ব্যবহার করছে। সংস্থাটির মতে, ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক সাফল্য ছিল বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য অর্জন এবং সেই কারণেই জার্সিতে চার তারকার ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছে।
একই ধরনের বিতর্ক সম্প্রতি দেখা গেছে মিসরের জার্সি নিয়েও। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সাতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মারক হিসেবে জার্সিতে সাতটি তারকা ব্যবহার করছিল মিসর। তবে বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগেই ফিফা তাদের জানিয়ে দেয়, জাতীয় দলের জার্সিতে এমন তারকা ব্যবহার করা যাবে না, কারণ সেগুলো বিশ্বকাপ শিরোপার প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে বাধ্য হয়ে সাত তারকাবিশিষ্ট জার্সি বাদ দিতে হয় মিসরকে।
Advertisement
এই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে মিসরকে তারকা সরাতে হয়েছে, সেখানে উরুগুয়ে কীভাবে অলিম্পিক শিরোপার স্বীকৃতিস্বরূপ চার তারকা ব্যবহার করার অনুমতি পাচ্ছে? ফুটবল বিশ্বে তাই তারকা-নীতির সামঞ্জস্য নিয়েও চলছে তুমুল আলোচনা।
এসকেডি/টিটিটি/জেআইএম