যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে নিজের ৮০তম জন্মদিনের ‘সেরা উপহার’ বানাতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার (১৪ জুন) নিজের জন্মদিনের দিনই চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন তিনি। ট্রাম্প তার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছেন ঠিকই, তবে ইরান তাকে এত সহজে জন্মদিনের ‘উপহার’ দিতে রাজি ছিল না। ফলে দুই দেশের সাড়ে সাত ঘণ্টার সময়ের ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে চতুরতার আশ্রয় নেয় তেহরান। ট্রাম্পের জন্মদিন পার হওয়ার জন্য তারা স্থানীয় সময় মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে, যাতে চুক্তির ঘোষণা রোববারের পরিবর্তে সোমবারের তারিখে নথিবদ্ধ হয়।
Advertisement
দুইজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ঐতিহাসিক এই চুক্তি ঘোষণার ক্ষণটি যেন কোনোভাবেই ট্রাম্পের জন্মদিনের সঙ্গে মিলে না যায়, সে জন্য তেহরান ইচ্ছা করে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করে। ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা পার হওয়ার পর অর্থাৎ সোমবার (১৫ জুন) প্রথম প্রহরে ইরান এই চুক্তিতে সম্মতি দেয়।
আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে বিশ্বজুড়ে স্বস্তি, প্রশংসায় ভাসছে পাকিস্তানদুই দেশের সময়ের এই ব্যবধান অবশ্য ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষকেই নিজেদের মতো করে কৃতিত্ব নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ওয়াশিংটন সময় গত রোববার বিকেল ৫টা ২৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর) ‘চুক্তি সম্পন্ন’ হওয়ার ঘোষণা দেন, তেহরানে তখন ঘড়ির কাঁটায় রাত ১টা বেজে গেছে এবং তারিখ বদলে ১৫ জুন হয়ে গেছে। এর ফলে ট্রাম্প যেমন দাবি করতে পারছেন চুক্তি তার জন্মদিনের দিনই (১৪ জুন) হয়েছে, তেমনি ইরানও বলতে পারছে তারা ট্রাম্পের জন্মদিনে কোনো সুখবর দেয়নি, চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে পরেরদিন।
চুক্তি ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালি শুল্কমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলো। বিশ্বের জাহাজগুলো, আপনাদের ইঞ্জিন চালু করুন। তেল সরবরাহ শুরু হোক!’
Advertisement
চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেও এর সব শর্ত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ হবে। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
চুক্তি প্রসঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী দেশটির তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারকের অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুকে বিশ্বাস করছি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করছে, তা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব।’
মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই শান্তি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এরপর একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই পক্ষ আগামী ৬০ দিন ধরে কারিগরি ও কৌশলগত আলোচনা চালিয়ে যাবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, এনডিটিভিকেএএ/
Advertisement