জাতীয়

পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবায় ডিএমপির ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’

রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিবহন শ্রমিকদের শারীরিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উদ্যোগে ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

হেলথ ক্যাম্পের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৩ জুন) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানের দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সহযোগিতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে এয়ারপোর্ট গোলচত্বর, মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস স্ট্যান্ড, কাকরাইল, মতিঝিল বয়েজ স্কুল মাঠ, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এবং বলধা গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় ‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’ স্থাপন করা হয়।

ক্যাম্পগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো আনিছুর রহমান বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা স্বল্প আয়, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং সময়ের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই যথাসময়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেই ডিএমপি এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, পরিবহন চালক ও হেল্পারদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা গেলে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনও অধিক নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে এটি আরও বৃহৎ ও টেকসই পরিসরে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ পরিবহন চালক ও হেলপার উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফুসফুসজনিত জটিলতা এবং মাংসপেশির বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকেন। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ কিংবা নিরাময় সম্ভব হলেও কর্মব্যস্ততা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না। ডিএমপির এই উদ্যোগটি মূলত পরিবহন শ্রমিকদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি মানবিক প্রচেষ্টা।

‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’ কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যে সহস্রাধিক পরিবহন শ্রমিক এ সেবা গ্রহণ করেছেন।

Advertisement

টিটি/জেএইচ