বর্ষাকাল মানেই বৃষ্টি, কাদা আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। এই সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে যান ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারকারীরা, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক স্কুটার চালকরা। যেহেতু ই-স্কুটারের মূল ভিত্তি ব্যাটারি ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম, তাই পানি ও আর্দ্রতা এতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের মেরামতের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বর্ষাকালে স্কুটারের বাড়তি যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি।
Advertisement
ইলেকট্রিক স্কুটারের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পানি। যদিও অনেক আধুনিক স্কুটারকে ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট হিসেবে তৈরি করা হয়, তবুও সম্পূর্ণভাবে জলরোধী নয়। তাই গভীর পানি, জলাবদ্ধ রাস্তা বা বড় বড় গর্তের পানি এড়িয়ে চলা উচিত। পানির মধ্যে স্কুটার চালালে ব্যাটারি কম্পার্টমেন্ট বা মোটরে পানি ঢুকে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন বর্ষায় বাইকের কিছু অংশে জং ধরতে পারে, আপনার যা করণীয় চার্জিংয়ে সতর্কতাবর্ষায় স্কুটার চার্জ দেওয়ার সময় বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার। ভেজা হাতে বা ভেজা পরিবেশে চার্জার সংযোগ করা উচিত নয়। চার্জিং পোর্টে পানি থাকলে আগে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। সম্ভব হলে স্কুটারকে ঘরের ভেতরে শুকনো জায়গায় রেখে চার্জ দিন। খোলা জায়গায় চার্জ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে।
ব্রেক ও টায়ারের যত্নবর্ষায় রাস্তা পিচ্ছিল থাকে, তাই স্কুটারের ব্রেক সিস্টেম ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। ব্রেক প্যাডে কাদা বা পানি জমে গেলে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। একইভাবে টায়ারের গ্রিপও গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ট্রেডযুক্ত টায়ার ব্যবহার করলে স্লিপ করার ঝুঁকি কমে। প্রয়োজনে টায়ারের এয়ার প্রেসার ঠিক আছে কি না সেটিও চেক করতে হবে।
Advertisement
বৃষ্টির দিনে স্কুটার দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। তবে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই হবে না। নরম কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করতে হবে এবং সম্ভব হলে শুকনো জায়গায় রেখে পুরোপুরি শুকাতে দিতে হবে। বিশেষ করে চার্জিং পোর্ট, সুইচ, ডিসপ্লে ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক অংশে পানি জমে আছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে।
আরও পড়ুন এক চার্জেই স্কুটার চলবে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি ওয়াটারপ্রুফ কভার ব্যবহারবর্ষাকালে স্কুটার পার্ক করার সময় ওয়াটারপ্রুফ কভার ব্যবহার করা খুবই উপকারী। এটি স্কুটারকে সরাসরি বৃষ্টি ও ধুলো থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে রাতের বেলা বা দীর্ঘ সময় বাইরে রাখার ক্ষেত্রে কভার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলা যেতে পারে।
নিয়মিত সার্ভিসিংবর্ষার সময় স্কুটার কিছুটা বেশি চাপের মধ্যে থাকে। তাই নিয়মিত সার্ভিসিং করানো উচিত। সার্ভিসিংয়ের সময় ব্যাটারি, মোটর, ব্রেক ও ইলেকট্রিক কানেকশন ভালোভাবে পরীক্ষা করানো দরকার। এতে ছোট সমস্যা বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে।
কেএসকে
Advertisement