যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অবশেষে হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো শুল্ক ছাড়াই মুক্তভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
Advertisement
রোববার (১৪ জুন) ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শত্রুতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ ছিল।
আরও পড়ুন জানালো পাকিস্তান / যুদ্ধ বন্ধে একমত আমেরিকা-ইরান, চুক্তি সই শুক্রবারনিজের ৮০তম জন্মদিনে এই চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালি শুল্কমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলো। বিশ্বের জাহাজগুলো, আপনাদের ইঞ্জিন চালু করুন। তেল সরবরাহ শুরু হোক!’
Advertisement
আলাদা এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগে অনেক প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। আঞ্চলিক নেতারা এই প্রথম এমন একজন প্রেসিডেন্টকে পেয়েছেন যিনি প্রকৃত শান্তি অর্জনে সহায়তা করতে পারেন।’
তবে চুক্তির পর নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে সতর্কও করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। অথবা মধ্যপ্রাচ্যের মোট রাজস্বের ২০ শতাংশের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের ‘অভিভাবক’ হতে পারে। তবে চুক্তি ঘোষণার আগে না পরে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়াট্রাম্পের ঘোষণার আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই চুক্তির কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে এই চুক্তি হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
শাহবাজ শরীফ এই সফল মধ্যস্থতার জন্য কাতার, সৌদি আরব এবং তুরস্কের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে এ সপ্তাহে আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে মধ্যস্থতাকারীরা বেশ কয়েকটি বৈঠক করবেন।’
Advertisement
এদিকে কাতার এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হবে। আলোচনা সফল করতে যুক্তরাজ্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
গত কয়েকদিন ধরে এই চুক্তি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। বিশেষ করে বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান, কাতার, সৌদি ও তুরস্কের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই শান্তি চুক্তি আলোর মুখ দেখল।
সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/