মতামত

বেনজীরের গ্রেফতার: আইনের শাসনের নতুন পরীক্ষা

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে যিনি ছিলেন, যিনি অপরাধ দমন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সেই সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিদেশে গ্রেফতারের সংবাদ বাংলাদেশের জনপরিসরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাঁর গ্রেফতার কেবল একজন ব্যক্তির আইনি সংকটের ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি, দুর্নীতিবিরোধী লড়াই এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Advertisement

একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ আজ দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে, সেগুলোর ব্যাপ্তি ও প্রকৃতি এতটাই বিস্তৃত যে তা দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন জেলায় শত শত বিঘা জমি, একাধিক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ, শেয়ারবাজারে বিপুল অংশীদারত্ব, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে সম্পদ থাকার অভিযোগ তদন্তাধীন। অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদের বড় একটি অংশ তাঁর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, এই সম্পদের কিছু অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে অর্থ ও সম্পদ স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ আদালতের বিচারে এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু অভিযোগের পরিমাণ ও প্রকৃতি এতটাই বিস্তৃত যে তা জনমনে বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কারণ, যাঁর দায়িত্ব ছিল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, তিনি নিজেই যদি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ান, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

Advertisement

তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত অন্যত্র। বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার আসলে একটি প্রতীকী ঘটনা। এটি দেখিয়ে দেয় যে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং রাষ্ট্রের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থাকলেও আইনের ঊর্ধ্বে থাকার নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনজীবনে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না, কিংবা নিলেও তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় না। বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ জব্দ, আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি উদ্যোগ এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার সেই ধারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আঘাত হেনেছে।

তবে এখানেই প্রশ্ন আসে—এটি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা?

বাংলাদেশে দুর্নীতি কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; এটি বহু ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সরকারি ক্রয়, ভূমি প্রশাসন, করব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত, প্রকল্প বাস্তবায়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়া—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকেও বাংলাদেশকে দুর্নীতির ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার যদি কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এর তাৎপর্য দ্রুত ম্লান হয়ে যাবে। কিন্তু যদি এটি বৃহত্তর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অংশ হয়, তাহলে এর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব অনেক বেশি।

বাস্তবতা হলো, বেনজীর আহমেদ একা নন। দেশে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের অভিযোগ বহুদিন ধরে উচ্চারিত হচ্ছে। সমাজে এমন এক শ্রেণি গড়ে উঠেছে, যারা রাজনৈতিক সংযোগ, প্রশাসনিক প্রভাব বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের অনেকেই দেশে-বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বেনজীরের বিরুদ্ধে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা কি অন্যদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে?

এখানেই আইনের শাসনের প্রকৃত পরীক্ষা। আইনের শাসন মানে শুধু আইন থাকা নয়; বরং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা। একজন সাধারণ নাগরিক এবং একজন সাবেক আইজিপি—দুজনের জন্যই আইনের মানদণ্ড যদি এক হয়, তখনই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু যদি বিচার বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা প্রতীকী প্রদর্শনের অভিযোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।

Advertisement

বেনজীর আহমেদ একা নন। দেশে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের অভিযোগ বহুদিন ধরে উচ্চারিত হচ্ছে। সমাজে এমন এক শ্রেণি গড়ে উঠেছে, যারা রাজনৈতিক সংযোগ, প্রশাসনিক প্রভাব বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের অনেকেই দেশে-বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বেনজীরের বিরুদ্ধে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা কি অন্যদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে?

বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার ঘিরে সরকারের প্রতিক্রিয়াও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জাতীয় সংসদে গতকাল ১৪ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘটনাটিকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই গ্রেফতার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এটি প্রমাণ করে যে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু জনগণ এখন বক্তব্যের চেয়ে বেশি আগ্রহী বাস্তব ফলাফলে।

কারণ, গ্রেফতার কোনো মামলার সমাপ্তি নয়; বরং একটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার সূচনা। রাষ্ট্রের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা। সরকার জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেফতার করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের বাস্তবতা হলো, গ্রেফতার ও প্রত্যর্পণ এক বিষয় নয়। প্রত্যর্পণ একটি জটিল আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, যেখানে অভিযোগের প্রকৃতি, প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা, মানবাধিকারসংক্রান্ত বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা গুরুত্ব পায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, হাইপ্রোফাইল অভিযুক্তরা প্রত্যর্পণ ঠেকাতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। আদালতে আপিল, প্রক্রিয়াগত আপত্তি কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ তুলে তাঁরা বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেন। বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রেও এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা শুধু পুলিশের নয়; এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক দক্ষতা, আইনি প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

তবে আরও বড় প্রশ্ন হলো, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর কী হবে? যদি এই মামলা কেবল একজন ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এর প্রভাবও সীমিত থাকবে। কিন্তু যদি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সূত্র ধরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের পদ্ধতি, অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক, ক্ষমতার অপব্যবহারের কাঠামো এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা উদ্ঘাটন করা যায়, তাহলে এটি বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে একটি যুগান্তকারী মোড় হয়ে উঠতে পারে।

জনগণ কেবল গ্রেফতারের সংবাদে সন্তুষ্ট নয়; তারা বিচার দেখতে চায়। তারা জানতে চায়, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, অবৈধ সম্পদের প্রকৃত হিসাব জাতির সামনে আসবে কি না এবং যাঁরা একই ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের প্রকৃত তাৎপর্য নির্ধারিত হবে এসব প্রশ্নের উত্তরের মধ্য দিয়েই।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বারবার বলা হয়েছে। কয়েকটি আলোচিত অভিযানে জনগণের মধ্যে আশাবাদও তৈরি হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে বাস্তবতা হলো, দুর্নীতির অভিযোগ এখনো থেমে নেই। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, প্রকল্প এবং সেবা খাতে অনিয়মের খবর নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যক্তি পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু দুর্নীতির কাঠামোগত কারণগুলো এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করা প্রয়োজন। দুর্নীতি কেবল নৈতিক ব্যর্থতা নয়; এটি উন্নয়নেরও বড় বাধা। বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্নীতি বিনিয়োগ কমায়, সরকারি ব্যয় অকার্যকর করে, বৈষম্য বাড়ায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। যে অর্থ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা অবকাঠামোতে ব্যয় হওয়ার কথা, তার একটি অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হলে পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অর্থ পাচারের বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। কারণ, পাচার হওয়া অর্থ দেশের অর্থনীতির বাইরে চলে যায়। দেশে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থ বিদেশি সম্পদে রূপান্তরিত হয়। ফলে জাতীয় অর্থনীতি দ্বিগুণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়—একদিকে সম্পদ হারায়, অন্যদিকে উন্নয়নের সম্ভাবনাও কমে যায়।

বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের আরেকটি তাৎপর্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রশ্নে। অতীতে অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশে চলে গিয়ে বিচার এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে অর্থপাচার, দুর্নীতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেফতারের ঘটনা দেখায় যে সীমান্ত পেরিয়ে গেলেই দায়মুক্তি নিশ্চিত হয় না। এটি ভবিষ্যতে দুর্নীতিবাজদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

তবে জনমনে স্থায়ী আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়া। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন, ন্যায়সংগত বিচার এবং রায়ের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত করে রাষ্ট্রের অনুকূলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, ব্যক্তি নয়—ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। সম্পদের বাধ্যতামূলক ও যাচাইযোগ্য ঘোষণা, স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, ডিজিটাল নজরদারি, তথ্য অধিকার আইন কার্যকর প্রয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে দুর্নীতির পুনরুৎপাদন বন্ধ হবে না। এক বেনজীরের পতন হয়তো শিরোনাম তৈরি করবে, কিন্তু নতুন বেনজীরের জন্ম ঠেকাতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।

বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার তাই কেবল একজন সাবেক আইজিপির ব্যক্তিগত পরিণতির গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্র, জবাবদিহির সংস্কৃতি এবং দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই ঘটনা জনগণকে একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে—আমরা কি সত্যিই এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ক্ষমতা নয়, আইনই শেষ কথা বলবে?

যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে বেনজীরের গ্রেফতারকে কোনো সমাপ্তি হিসেবে দেখা যাবে না। বরং এটি হতে হবে একটি দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রার সূচনা—যে যাত্রার গন্তব্য একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com

এইচআর/এমএফএ/জেআইএম