আইন-আদালত

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় যাবে যেসব দপ্তরে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ২। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, ডিসি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিএমএম বরাবর পাঠানো হতে পারে আজ।

Advertisement

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এর আগে, এ মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনলিপি আজকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হবে।

এদিকে, প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর শেখ মইনুল করিম। তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়েছি। আমরা রায় পর্যালোচনা করছি। যেসব আসামির সাজা কম হয়েছে, তাদের সাজা বাড়াতে আপিলের বিষয়ে রায় পর্যালোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জানান, রায় প্রকাশের পরে কারাগারে থাকা আসামিদের জন্য সাজা পরোয়ানা কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। এছাড়া পলাতক আসামিদের জন্য পুলিশের আইজির কাছে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হবে।

Advertisement

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে রায়ের কপি পাঠানো হবে। কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরাও রায়ের কপি পাবেন।

কবে পাঠানো হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকোর মধ্যে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গত ৯ এপ্রিল রায় দেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড এবং ও তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

আরও পড়ুন হাজত বাসের একজনকে মুক্তি / আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে ৩০ জনের কার কী দণ্ড

বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই আদালত। দণ্ডিতদের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ সাতজন কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা হলেন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়; ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ। এদের মধ্যে আমির ও সুজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। বিচার চলাকালে পলাতক থাকলেও রায়ের পর সম্প্রতি গ্রেফতার হন বেরোবির সাবেক উপাচার্য।

Advertisement

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ। এই ঘটনাটি পরে তদন্ত ও বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসে।

গত বছরের ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ৬ আগস্ট এই মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং এরপর ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজনকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষী ছিলেন না।

এফএইচ/এসএনআর