কোনো এক সময় খাওয়ার পর ফেলে দেওয়া হয়েছিল একটি খেজুরের আঁটি। বছরের পর বছর ধরে সেই ছোট্ট আঁটি থেকেই জন্ম নিয়েছে বিশাল বৃক্ষ, যার উচ্চতা এখন ৪০ ফুটেরও বেশি!
Advertisement
মালদ্বীপের গ্যামানাফুশি দ্বীপে একটি বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের প্রধান কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
দূর থেকে তাকালেই সোজা ও লম্বা কাণ্ডের এই গাছটি সবার নজর কেড়ে নেয়। এর ওপরের অংশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে সবুজ পাতা, যা দেখতে অবিকল বাংলাদেশের পরিচিত খেজুর গাছের মতো। এ কারণেই গাছটি নিয়ে মালদ্বীপের স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে দারুণ উদ্দীপনা।
আলাপকালে স্থানীয়রা জানান, বহু বছর আগে কেউ একজন খেজুর খেয়ে আঁটিটি মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন। কোনো রকম যত্ন বা পরিকল্পনা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে সেখান থেকে অঙ্কুরোদগম হয়। এরপর কালক্রমে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে এটি আজকের এই বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। বর্তমানে গাছটি এই দ্বীপের অন্যতম ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
Advertisement
গাছটির মালিক ফারিহ জানান, মালদ্বীপে সাধারণত দেখা যাওয়া এই ধরনের গাছের তুলনায় এটি অনেক বেশি উঁচু। গাছটি যখন ছোট ছিল, তখন এর পাতাগুলো বেশ বড় বড় দেখাত। এখন এটি এত বেশি উঁচুতে চলে গেছে যে নিচ থেকে পাতাগুলো আর স্পষ্ট দেখা যায় না। তবে গাছটি এখনো বেশ শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে সাধারণত সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ লাগানোর প্রবণতা দেখা যায়। তবে একটি ফেলে দেওয়া আঁটি থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়ে এত বিশাল হয়ে ওঠার ঘটনা সেখানে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা মনে করেন, এই গাছটি শুধু একটি বৃক্ষ নয়; বরং এটি প্রকৃতির বিস্ময়কর ক্ষমতার এক উদাহরণ। যে আঁটিকে একদিন গুরুত্বহীন মনে করে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল, সেটিই আজ গ্যামানাফুশি দ্বীপের সৌন্দর্য ও পরিচয়ের এক অনন্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমআরএম
Advertisement