আন্তর্জাতিক

১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে হবে চুক্তি স্বাক্ষর

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে স্বাক্ষরিত হবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক। আগামী ১৯ জুন এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে একাধিক বার পর্যালোচনার পর এ সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করা হয়।

Advertisement

সোমবার (১৫ জুন) ভোরে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, দীর্ঘ ও নিবিড় আলোচনার পর তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন>>১৪ দফা খসড়া: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে হবে চূড়ান্ত চুক্তি

Advertisement

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে উদ্বোধনী বক্তব্যে শাহবাজ বলেন, আজ আল্লাহর অশেষ রহমতে বিশ্ব একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি পাকিস্তানের জন্যও গর্বের বিষয়। কারণ কূটনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নিতে ইসলামাবাদ গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করে। যুদ্ধবিরতির শুরু থেকেই ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা স্মারকের খসড়া গত ৬০ দিনে একাধিকবার পর্যালোচনা করা হয়। তেহরান ও ওয়াশিংটন বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের মতামত ও সংশোধনী প্রস্তাব যুক্ত করে।

বিভিন্ন চাপ, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ওয়াশিংটনের অবস্থানের একাধিক পরিবর্তনের পরও ইরান তার অবস্থানে অনড় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আগামী ৬০ দিনে উভয় দেশ বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আরও নিবিড় আলোচনা চালাবে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

Advertisement

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

সূত্র:ডন/প্রেস টিভি

কেএম