দেশজুড়ে

শূন্যরেখায় ছয় বাংলাদেশির মানবেতর জীবন, খাবার-পানি দিচ্ছেন সীমান্তবাসী

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইনের শিকার ছয় বাংলাদেশি নাগরিক দুই দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ফলে নারী ও শিশুসহ ছয়জন এখনো সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রোববার (১৪ জুন) ভোরে শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের এক নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের বাধা ও বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।

বর্তমানে ওই ছয়জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। স্থানীয় সীমান্তবাসীরা মানবিক কারণে তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছেন। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় নারী ও শিশুরা নিদারুণ কষ্টে আছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকার কংশেরকুল গ্রামে। কয়েকদিন আগে তারা দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে বিএসএফ তাদের আটক করে সীমান্তে নিয়ে আসে।

Advertisement

এ বিষয়ে রোববার দুপুরে সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি। উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে।

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘শুনতেছি তারা বাংলাদেশি নাগরিক। মানবিক কারণে আমরা তাদেরকে খাবার সহায়তা করতেছি। শিশু সন্তান নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে, দ্রুত এটা নিরসন হওয়া দরকার।’

গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা বাংলাদেশি হলে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু রাতের আঁধারে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঠেলে দিলে কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি আরও বলেন, পুশ-ইনের বিষয় নিয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

Advertisement

রোকনুজ্জামান মানু/এফএ/এমএস