তদন্তে দুর্বলতা ও যথাযথ সাক্ষ্য না থাকায় যশোরের অভয়নগরে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী আব্দুল্লাহকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
Advertisement
এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে এ রায় দেন। আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাসাদ্দর রায়হান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সায়িদ ইজাজ কবির।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, যশোরের অভয়নগরে ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় নিজ ঘরে স্ত্রী সবুরা বেগম অগ্নিদগ্ধ হন। এরপর ২১ জানুয়ারি সবুরা বেগমের বাবা সামছুর শেখ বাদী হয়ে জামাই আব্দুল্লাহসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২২ জানুয়ারি সবুরা জবানবন্দি দেন। আর ২৮ জানুয়ারি সবুরা মারা যান। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৯ সালে আসামি আব্দুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে নিয়ম অনুসারে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। গ্রেফতারের পর আসামি জেল আপিল করেন।
গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু মামলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করেন। সেই বেঞ্চে গত ১৪ জুন এ মামলার শুনানি শুরু হয়।
Advertisement
আইনজীবী ইমাম হোসেন তারেক বলেন, বাড়িতে আগুন লাগছে, পাশে একজন দেখতে পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এটা ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারির ঘটনা। আর মামলা হয় ২১ জানুয়ারি। পরের দিন ২২ জানুয়ারি ভিকটিম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন।
কেন খালাস পেলেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, মামলায় অভিযোগ ছিল যৌতুক চেয়ে মৃত্যু ঘটনো। কিন্তু যৌতুক যে চেয়েছে সেটা প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন। হাত পা বেঁধে মুখে কাপড় গুজে লেপ তোষকে কেরোসিন তেল দিয়ে আগুন দেওয়ারও একটা অভিযোগ আছে। এর স্বপক্ষে অর্থাৎ, ঘটনার সময় যে স্বামী ছিল বা বেরিয়ে গেছেন, পুলিশ কোরোসিনসহ যে সব উপকরণে আগুন লাগিয়েছে তা জব্দ তালিকায় দেখাননি। এছাড়া, ঘটনা ঘটেছে ২০২৮ সালের ১৫ জানুয়ারি। মামলা হয়েছে ২১ জানুয়ারি। ভিকটিম অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পরে ১৬ জানুয়ারি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। ওই সন্তান হাসপাতালে রিসিভ করেন স্বামী। এখন এখানে প্রশ্ন- স্বামী যদি আগুন লাগাতেন তাহলে তো পালিয়ে যেতেন । কিন্তু, তিনি হাসপাতালে ভিকটিমকে চিকিৎসা করিয়েছেন।
এছাড়া, স্বামী ঘটনাস্থলে ছিলেন বা ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন এমন কিছু প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেনি। কী দিয়ে আগুন লাগিয়েছেন সেটাও প্রমাণ করতে পারেননি। প্রসিকিউশন যদি একটা এভিডেন্স দিতো যে, স্বামী ওখানে ছিলেন, একটা লাইন যদি কোনো সাক্ষী বলতেন তাহলে সর্বোচ্চ সাজা হতো। ঘটনা রাতে হলেও তো হতো। ঘটনা ঘটছে দিনের তিনটা বাজে। আর আগুনে পুরো বসত-বাড়ি পুড়ে গেছে। শুধু ভিকটিম পুড়ে গেছে যে সেটা না।
এফএইচ/এএমএ
Advertisement