বিনোদন

দীর্ঘ ১৬ বছরের কষ্টের কথা জানালেন প্রভা

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, কটূক্তি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন। তবে এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বললেও এবার এক ফেসবুক লাইভে এসে নিজের দীর্ঘ ১৬ বছরের মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

Advertisement

লাইভে প্রভা জানান, বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন মনে করছেন, কিছু বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাইবার বুলিং, ভিকটিম ব্লেমিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে হেয় করার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে প্রভা বলেন, ‘আমাকে প্রায় ১৬ বছর ধরে বুলি করা হচ্ছে। আপনারা আমাকে বুলি করে আনন্দ পান, এটা আমি বুঝি। কিন্তু যতটা আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন, তার অর্ধেকও যদি প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে করতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।’

তার মতে, সমাজে অপরাধীদের চেয়ে ভুক্তভোগীদের দোষারোপ করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধের শিকার হলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।

Advertisement

প্রভা বলেন, ‘আমাকে যতটা বুলি করেছেন, তার ৫০ শতাংশও যদি অপরাধীদের নিয়ে করতেন, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতেন, তাহলে অনেক অপরাধীর জন্মই হতো না।’

অভিনেত্রীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা অন্যকে আক্রমণ করে, কটূক্তি করে বা অপমানজনক মন্তব্য করে, তাদের অনেকেই নিজেদের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট এবং মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত তথ্য বা গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করা গুরুতর অপরাধ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সময় অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।

সাদিয়া জাহান প্রভা

Advertisement

ভিডিও বার্তায় মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রভা। তিনি বলেন, শৈশবের মানসিক আঘাত, পারিবারিক শিক্ষা এবং সামাজিক মূল্যবোধ একজন মানুষের আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন:৩১ বছর পর আধুনিক গানে নতুন চমক ফেরদৌস আরার স্কুলের গণ্ডি পেরোতে না পারলেও সিনেমার রানি শাবানা 

সবশেষে সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি এবং ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এই অভিনেত্রী। তার এই বক্তব্য এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রভার সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করে অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এমএমএফ