২৫ বছর আগে সিরাজগঞ্জে স্ত্রী হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতে দেওয়া স্বামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
Advertisement
এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আংশিক ডেথ রেফারেন্স মঞ্জুর করে এ রায় দেন।
দণ্ডিত আসামি হলেন সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কের শীলা জুয়েলার্সের মালিক সতীশ চন্দ্র রায়ের ছেলে, ভুক্তভোগীর স্বামী সুবীর কুমার রায়। আর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন ডা. সুশীল কুমার রায়, সুনীল কুমার রায়, মনি রায় ও মনোরঞ্জন কুমার রায়।
আসামিরা পলাতক থাকায় আদালতে তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
Advertisement
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে সুবীর কুমারের সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের সাহাপাড়ার গোপীনাথ বিশ্বাসের মেয়ে সুমী রাণীর বিয়ে হয়। সে সময় পাঁচ লাখ টাকার যৌতুকের মধ্যে আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকার জন্য সুবীর ও তার বাড়ির লোকজন সুমীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন। ২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়িতে সুমীকে হত্যা করা হয়।
পরে সুমীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে সুবীরের পরিবারের পক্ষে মনোরঞ্জন থানায় জিডি করেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সুমীর মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে সুমির বাবা জামাই সুবীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ সুবীরসহ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য বিষয়টি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। গত ১৫ জুন হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।
এফএইচ/এমএমকে
Advertisement