দেশজুড়ে

সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী না কেনায় হামলা, গ্রেফতার ১

ময়মনসিংহ নগরের ময়নার মোড় এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনতে রাজি না হওয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা, তার স্ত্রী ও স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Advertisement

বুধবার (১৭ জুন) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ত্রিশাল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম (৪০) নগরীর বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া জনতা ব্যাংকে কর্মরত। ২০২৩ সালে নগরের ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি কিনে পাঁচতলা ভবনের ভিত্তিসহ একটি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত মালামাল তাদের কাছ থেকে কেনার জন্য নজরুল ইসলামকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু তিনি নিজের পছন্দমতো সরবরাহকারীর কাছ থেকে মালামাল কিনে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে সাইফুল ক্ষুব্ধ হন। তাদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার বিকেলে আবারও তাদের কাছে মালামাল নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলাকারীরা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে কয়েকজন ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে আরও কয়েকজন হামলায় যোগ দেয়। তাদের একজনকে ধারালো অস্ত্র হাতে দৌড়ে আসতেও দেখা যায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে বাধা দিতে গেলে ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। ফুটেজটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় সোমবার নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

হামলার শিকার ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। তারা এসে বলে চাঁদা দিতে হবে, না হলে কাজ দিতে হবে। আমি ভেবেছিলাম বিষয়টি হয়ত হুমকিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু এভাবে হামলার শিকার হব, তা কখনো কল্পনা করিনি। আমি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

Advertisement

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় ত্রিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া অন্যদেরও শনাক্তের কাজ চলছে।

হোসাইন সুলভ/কেএইচকে/জেআইএম