যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বিদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) উদ্যোগ জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিচার বিভাগ (ডিওজে) আগামী অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ২৫০টি মামলা দায়ের করার পরিকল্পনা করছে বলে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
Advertisement
চলতি বছরের মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে বিচার বিভাগ ২৯টি মামলা করেছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতারণার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।
সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১২ জুন পর্যন্ত মোট ১৬৬টি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা হয়েছিল। সে তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান উদ্যোগকে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বৈধতা রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, যারা প্রতারণা, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, শিশু নির্যাতন বা নাগরিকত্বের আবেদনকালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিচার বিভাগ বিভিন্ন বিভাগ থেকে আইনজীবীদের সরিয়ে এনে নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত মামলায় যুক্ত করছে। এতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কার্যক্রমও প্রভাবিত হতে পারে বলে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে প্রশাসন বলছে, এটি নতুন কোনো আইন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন আইনে এমন ব্যবস্থা রয়েছে। যদি কেউ নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন বা প্রকৃতপক্ষে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য না হন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে।
তবে এই নিয়ম জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এটি কেবল তাদের জন্য, যারা পরে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।
Advertisement
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএসএম