ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন টমাস টুখেল। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়টি মোটেও উত্তেজনাহীন ছিল না। ম্যাচ চলাকালীন সাইডলাইনে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়াতে দেখা যায় জার্মান এই কোচকে।
Advertisement
ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে ইংল্যান্ড শুরুতে এগিয়ে গেলেও ১৭ মিনিটের মাথায় টুখেলের মেজাজ হারানোর ঘটনা ঘটে। তখন থ্রি লায়ন্সরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল; কিন্তু গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী বল বিতরণ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন টুখেল।
ফক্স স্পোর্টসের প্রতিবেদক জিওফ শ্রিভস, দ্য সানের বরাত দিয়ে জানান, ‘পিকফোর্ড এক পর্যায়ে বাঁ-দিকে ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে রাইট ব্যাকের কাছে বল পাঠানোর পরিবর্তে অন্য দিকে বল পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টুখেল সঙ্গে সঙ্গেই টেকনিক্যাল এরিয়ার কিনারায় গিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।’
পিচসাইড মাইক্রোফোনে ধরা পড়ে দুজনের কথোপকথন। শ্রিভস জানান, ‘পিকফোর্ড পাল্টা কিছু বলার চেষ্টা করলে টুখেল কঠোরভাবে তাকে থামিয়ে দেন।’শ্রিভসের ভাষ্য অনুযায়ী, টুখেল বলেন, ‘না, বলটা রাইট-ব্যাকের দিকে দাও, ওই দিকে যেও না। পিকফোর্ড কিছুটা প্রতিবাদ করলে টুখেল আরও কড়া সুরে বলেন, তুমি জানো তোমার কী করার কথা। আমি যেমন বলেছি, তেমনই করো!’
Advertisement
বিরতির সময় আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সহকারী কোচ অ্যান্থনি ব্যারিও কোচিং স্টাফের হতাশার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, ম্যাচের শুরুতে দল কিছুটা ভীতসন্ত্রস্ত ছিল এবং কখন লম্বা পাস ও কখন ছোট পাস খেলতে হবে- তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল।
প্রথমার্ধে অধিনায়ক হ্যারি কেইন জোড়া গোল করলেও ক্রোয়েশিয়ার মার্টিন বাতুরিনা ও পিটার মুসার গোলের কারণে ম্যাচ ২-২ সমতায় ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইংল্যান্ডকে। ম্যাচে গোল করে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড স্পর্শ করা কেইন জানান, বিরতিতে টুখেলের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
কেইন বলেন, ‘তিনি আমাদের বলেছিলেন সব বাঁধন খুলে ফেলতে, শান্ত থাকতে এবং নিজেদের খেলাটা খেলতে। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, সবচেয়ে খারাপ কী-ই বা হতে পারে? বিশ্বকে দেখাও আমরা কী করতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম, আর তারা আমাদের সেই গতি ও তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের এমন মানের পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। এগিয়ে যাওয়ার পর যেভাবে আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি, তাতে কখনোই মনে হয়নি আমরা বিপদের মধ্যে আছি। এরপর আমরা পাল্টা আক্রমণ থেকেও গোল করেছি। ম্যাচের একটি সময়ে আমরা আরও তিন বা চারটি গোল করতে পারতাম। সবাই কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে এমন কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটি সত্যিই দারুণ একটি ফল।’
Advertisement
দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত গোল করে ইংল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেওয়া জুদ বেলিংহ্যাম অবশ্য বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে কোনো নাটকীয় পরিস্থিতি ছিল বলে মনে করেন না।
রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেন, ‘এটা এমন কোনো ঘটনা ছিল না যেখানে বড় ধরনের নাটক হয়েছে বা কেউ দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেছে। দলের তখন ঠিক যেটা প্রয়োজন ছিল, কোচ সেটাই বলেছেন। আমাদের দলে অনেক পরিণত ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, তাই সবাই জানত আমাদের কোন মানের খেলায় পৌঁছাতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও আমাদের জন্য দারুণ একটি ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।’
শেষ পর্যন্ত মার্কাস রাশফোর্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। আগামী ২৩ জুন ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবে টুখেলের দল।
এমএআর/আইএইচএস/