আন্তর্জাতিক

‘হিমালয়ের সোনা’ ইয়ারসা গুম্বা কেন এত মূল্যবান?

নেপালের দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে প্রতি বছর গ্রীষ্মের শুরুতে শুরু হয় এক বিশেষ অভিযান। হাজার হাজার মানুষ পাহাড়ে ছুটে যান একটি বিরল ছত্রাকের খোঁজে, যার নাম ইয়ারসা গুম্বা। স্থানীয়ভাবে এটি কিডা জড়ি নামে পরিচিত। বাজারে এর মূল্য এত বেশি যে একে বলা হয় ‘হিমালয়ের সোনা’।

Advertisement

ইয়ারসা গুম্বা আসলে একটি বিরল ছত্রাক, যা ঘোস্ট মথ নামের এক ধরনের শুঁয়োপোকার শরীরে জন্মায়। চীনসহ বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি ইয়ারসা গুম্বার দাম ১৫ থেকে ২০ লাখ রুপি পর্যন্ত হতে পারে। যৌনশক্তি বৃদ্ধি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ঐতিহ্যবাহী ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের কারণে এটি ‘হিমালয়ান ভায়াগ্রা’ নামেও পরিচিত।

কেন শুধু হিমালয়েই জন্মায়?

ইয়ারসা গুম্বা জন্মানোর জন্য প্রয়োজন বিশেষ পরিবেশ, যা পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যায়। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় জন্মায়।

Advertisement

প্রচণ্ড ঠান্ডা, ভারী তুষারপাত এবং আর্দ্র মাটির কারণে শীতকালে ছত্রাকটি সক্রিয় হয়ে মাটির নিচে থাকা শুঁয়োপোকাকে সংক্রমিত করে। পরে বসন্তে তুষার গলে গেলে মাটি ফুঁড়ে ছোট বাদামি রঙের ছত্রাক বেরিয়ে আসে।

কেন পাহাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ?

প্রতি বছর মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে নেপালের ডোলপা, জুমলা, মুগু ও দারচুলার মতো পার্বত্য এলাকার শত শত গ্রাম প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। স্কুল বন্ধ হয়ে যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই পাহাড়ে চলে যান ইয়ারসা গুম্বা সংগ্রহ করতে।

স্থানীয়দের জন্য এটি আয়ের অন্যতম বড় উৎস। অনেকের দাবি, মাত্র দুই মাসের সংগ্রহ মৌসুমে যে আয় হয়, তা এক বছরের শ্রমের চেয়েও বেশি।

Advertisement

খুঁজে পাওয়া কঠিন

ইয়ারসা গুম্বা দেখতে ছোট একটি বাদামি ডাঁটির মতো, যা ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। এটি খুঁজে পেতে অনেক সময় মাটিতে উপুড় হয়ে হামাগুড়ি দিতে হয়। শিশু ও নারীদের চোখ বেশি তীক্ষ্ণ হওয়ায় তারাও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

উঁচু পাহাড়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ তাঁবুতে বসবাস করে সংগ্রাহকরা। নিজেদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা

ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ইয়ারসা গুম্বার বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

শরীরে শক্তি ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যৌনস্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় উপকারী। হৃদযন্ত্র, লিভার ও কিডনির সুস্থতা রক্ষায় সহায়তা করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ারসা গুম্বার বিপুল অর্থনৈতিক মূল্য এবং ঔষধি গুণের কারণে এটি এখন শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং হিমালয় অঞ্চলের মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম