আন্তর্জাতিক

৫০ বছরের বেশি বয়সীরা কেন যোগব্যায়ামের দিকে ঝুঁকছেন?

৫০ বছর পার হওয়ার পর সুস্থ থাকার লক্ষ্য অনেকটাই বদলে যায়। তখন আর কঠোর বা উচ্চমাত্রার ব্যায়ামের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় শরীরের নমনীয়তা, শক্তি, ভারসাম্য ও মানসিক সুস্থতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণেই বিশ্বজুড়ে মধ্যবয়স্ক ও প্রবীণদের মধ্যে যোগব্যায়ামের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।

Advertisement

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য, পেশির শক্তি, ঘুমের মান এবং মানসিক স্থিতিশীলতা উন্নত হয়। ফলে এটি এখন সুস্থ ও স্বাধীন জীবনযাপনের একটি কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫০ বছরের পর স্বাভাবিকভাবেই শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। পেশির শক্তি কমে যায়, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যেতে পারে, ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং আঘাত থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় লাগে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস বা দীর্ঘস্থায়ী কোমরব্যথার মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।

এসব পরিবর্তন দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে এবং অনেকের আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়। যদিও নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি, অনেকের পক্ষেই উচ্চমাত্রার ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম তুলনামূলক নিরাপদ ও সহজ বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

যোগব্যায়ামের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি। বিভিন্ন আসনের মাধ্যমে পেশি ও জয়েন্টের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় থাকে। ফলে ঝুঁকে কাজ করা, কোনো কিছু ধরার জন্য হাত বাড়ানো, সিঁড়ি ওঠানামা করা বা চেয়ার থেকে ওঠার মতো সাধারণ কাজও সহজ হয়ে যায়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত যোগব্যায়াম বয়সজনিত জয়েন্টের ব্যথা ও শরীরের কাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই এর সুফল পেতে পারেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতেও যোগব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ সুস্থ, সক্রিয় ও স্বনির্ভর জীবনযাপনের জন্য যোগব্যায়ামকে বেছে নিচ্ছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

এমএসএম