আন্তর্জাতিক

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, আবার যুদ্ধে জড়াবে ইরান?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে লেবাননজুড়ে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার (২০ জুন) ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই নতুন হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

Advertisement

লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, এদিন পশ্চিম বেকা অঞ্চলের সোহমোর এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। এতে ঘরের ভেতরে থাকা একই পরিবারের চার সদস্য নিহত এবং একজন আহত হন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরাতে কাজ করছেন। এছাড়া লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিডন জেলার কানারিত এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করলো ইরান

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্বরত তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে রাতভর ৫০টিরও বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হিজবুল্লাহ। এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, অস্ত্রাগার ও কমান্ড সেন্টারসহ ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে।

নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

ইসরায়েলের এই নতুন আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান ও জাহাজ চলাচল আপাতত বন্ধ থাকবে। এই পদক্ষেপটিকে শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে ইরানের প্রথম প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে, যদি এই আগ্রাসন ও চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তবে ইরান শত্রুকে তার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে বাধ্য করতে পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করবে। ইরানের এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন লেবাননসহ সব ফ্রন্টের যুদ্ধ বন্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্ব রাজনীতি এবং জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সমুদ্রপথটি বিশ্ব খনিজ তেলের বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ থাকার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়া।

এর আগে, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি দেখতে চান বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান শান্তি আলোচনাকে সফল করতে মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলমান শান্তি আলোচনা যেন সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য আমরা মধ্যপ্রাচ্যের সবাইকে তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা লেবানন, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলসহ সব ফ্রন্টে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রত্যাশা করছি।’ কিন্তু ট্রাম্পের সেই আশাবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েলের নতুন হামলা এবং জবাবে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তুলেছে।

Advertisement

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/