ফরিদপুর শহরের একটি ছাত্রাবাসে সমকামিতার অভিযোগে ৩ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) বিকালে শহরের কমলাপুর মহল্লার চানমারী এলাকার একটি ছাত্রাবাসে তাদের আটক করা হয়।
Advertisement
জানা গেছে, শহরের ছাত্রাবাসে সমকামিতার অভিযোগে ৫ যুবককে আটক করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। পরে তাদের মধ্যে ৩ জনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে পুলিশ আসার আগেই মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে তাদের পরিবার।
আটককৃতরা হলেন- সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জিহাদ হোসেন (২৮), নিউমার্কেটের দর্জি বাবু খান (৩৮) ও গোয়ালচামটের শ্রী অঙ্গনের বাসিন্দা কৃষ্ণ মন্ডল (৩০) ।
এছাড়া ছাত্রাবাসের বোর্ডার হাসান রাজ ও আরিয়ান নামে মূল অভিযুক্ত অপর দুই ছাত্রকে এলাকাবাসী প্রথমে আটক করলেও পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
Advertisement
মেসের বোর্ডার ফাহিম বিশ্বাস ও নাহিদ জানান, গত ১০ দিন আগে রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হাসান রাজ চানমারীতে তাদের মেসের বোর্ডার হয়ে ওঠেন। মেসে ওঠার পর থেকেই তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। একপর্যায়ে হাসান রাজ মেসের অন্য এক ছাত্রকেও সমকামিতার কুপ্রস্তাব দেন। এতে বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়।
গত শুক্রবার রাতে একপর্যায়ে হাসান রাজকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে সমকামিতার কথা স্বীকার করেন। তার ও পাশের আরেক মেসের বাসিন্দা আরিয়ানের মোবাইল চেক করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি দিয়ে চালানো একাধিক ‘গে গ্রুপের’ (সমকামী অনলাইন গ্রুপ) সন্ধান মেলে।
এরপর মেসের ছাত্ররা কৌশলে হাসান ও আরিয়ানকে দিয়ে ওই গ্রুপের অন্য তিন সদস্যদের মেসে আসার অনুরোধ জানায়। শনিবার দুপুরে জিহাদ, বাবু ও কৃষ্ণ মন্ডল মেসে এলে তাদের হাতেনাতে আটক করে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেয়।
আটক বাবু খান জানান, তার স্ত্রীসহ ২ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। ফরিদপুরের একটি এইডস ও এসটিডি (যৌনবাহিত রোগ) নিয়ে কাজ করা এনজিওতে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে এই সমকামী চক্রের ছেলেদের সঙ্গে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
Advertisement
রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র জিহাদ জানান, ফেসবুকে হাসান রাজের সঙ্গে তার পরিচয়। গত এক বছর ধরে তিনি এ কাজে সম্পৃক্ত। তবে হাসান রাজের সঙ্গে আজই প্রথম সরাসরি দেখা করতে এসে ফেঁসে গেছেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক(এসআই) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাবু খান, জিহাদ হোসেন ও কৃষ্ণ মন্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তাদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করেনি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/এনএইচআর/এমএস