ফাইনালের বাঁশি বেজে খেলাও শেষ। চ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফিও তুলে দেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মাঠের ফলাফলকে ছাপিয়ে গেছে ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য।
Advertisement
টুর্নামেন্টের বালিকা বিভাগের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন ভিআইপি গ্যালারির আনুষ্ঠানিকতা ছেড়ে হঠাৎ মাঠের পাশে নেমে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খুদে ফুটবলারদের উৎসাহ জোগাতে প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রটোকল ভাঙা দেখে দর্শকরাও আশ্চর্য হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের এমন উৎসাহ দেওয়ার দৃশ্য নিয়ে ধারাভাষ্যকারদেরও কথা বলতে শোনা যায় বারবার।
মন্ত্রী পরিষদের একাধিক সদস্যসহ মাঠের পাশে বসে খেলা দেখেই থামেননি প্রধানমন্ত্রী। গ্যালারি বক্সে থাকা ছাত্রদলের নেতাদেরও মাঠে নেমে আসতে বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর হাতের ইশারা পেয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকেই গ্যালারি ছেড়ে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেন।
Advertisement
দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের এই ফাইনাল খেলা সরাসরি উপভোগ করতে শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাঠে পৌঁছেই তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত।
আরও পড়ুন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে শিশুদের ‘ভোঁ-দৌড়’, মাঠজুড়ে বাঁধভাঙা উল্লাসধাপে ধাপে বাছাই শেষে সারাদেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোট চারটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালের মঞ্চে খেলার গৌরব অর্জন করে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে আসার আগেই শেষ হয় বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
পরে বালিকাদের ফাইনাল খেলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে প্রথমে ভিআইপি গ্যালারিতে নির্ধারিত আসনে বসেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ম্যাচ চলাকালীন কিছু সময় পর হঠাৎ চেনা প্রটোকল ভেঙে নিচে নেমে আসেন তারেক রহমান। মাঠের একদম কাছাকাছি চলে যান তিনি, সেখানে রাখা চেয়ারে বসে উপভোগ করতে শুরু করেন খুদে বালিকাদের খেলা। গ্যালারি ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর মাঠে এমন উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামজুড়ে এক অন্যরকম আমেজ তৈরি হয়।
Advertisement
মাঠের পাশে বসে তার সঙ্গে খেলা উপভোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বালিকা বিভাগের হাইভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে ঠাসা ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের ব্যবধানে ময়মনসিংহের আচারগাঁওকে পরাস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
পরে দুই বিভাগের বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা হয়। তুলে দেওয়া হয় ট্রফি। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খেলোয়াড় ও টিমের কর্মকর্তারা ফটোসেশনে অংশ নেন।
কেএইচ/ইএ