২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন ম্যাচ শুরুর আগেই ফুটবলবিশ্বে ঐতিহাসিক স্মৃতি জেগে উঠেছে। ৫২ বছর আগের সেই বিখ্যাত ১৯৭৪ সালের ম্যাচের পাশাপাশি, এই লড়াই অনেককে মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯৪ সালের ইয়োহান ক্রুইফকে ‘ফ্লাইং ডাচম্যান’ বার্সেলোনার কোচ হিসেবে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন বিপ্লবও ঘটাচ্ছিলেন।
Advertisement
১৯৭৪-এর ওয়েস্টফালেন স্টেডিয়ামে সুইডেনের বিপক্ষে ক্রুইফের সেই অবিস্মরণীয় ‘ক্রুইফ টার্ন’ ফুটবলকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। ম্যাচটি ০-০ ড্র হলেও, টোটাল ফুটবলের সেই দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক। আর ১৯৯৪ সালে, ক্রুইফ বার্সেলোনার ‘ড্রিম টিম’-কে নেতৃত্ব দিয়ে চারটি লা লিগা জিতেছিলেন। সেই সময় নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের কোচ হওয়ার গুঞ্জন ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়। আজকের নেদারল্যান্ডস দলের আক্রমণাত্মক স্টাইল ভার্জিল ফন ডাইক, ক্রিসেনসিও সামারভিলের নেতৃত্বে, যেন সেই ক্রুইফীয় দর্শনেরই প্রতিফলন।
সুইডেন প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী। আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গিওকেরেসের আক্রমণভাগ ভয়ঙ্কর। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস জাপানের সঙ্গে ২-২ ড্র করে চাপে। এই ম্যাচ জিতলে ‘অরেঞ্জ’ ব্রিগেডের নকআউট সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ক্রুইফ যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে এই ম্যাচ দেখে নিশ্চয়ই গর্ববোধ করতেন।’ তার উক্তি — ‘ফুটবল সহজ, কিন্তু সহজ করাই কঠিন’ আজও প্রতিটি খেলোয়াড়ের অনুপ্রেরণা তিনি। এনআরজি স্টেডিয়ামে আজ যে লড়াই হবে, তা শুধু তিন পয়েন্টের নয়, বরং ক্রুইফের উত্তরাধিকারের লড়াই।
Advertisement
এই ম্যাচ ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। ক্রুইফের আত্মা নিশ্চয়ই হাসবে যদি নেদারল্যান্ডস টোটাল ফুটবলের ঐতিহ্য ধরে রাখে।
কী হয়েছিল ৫৬ বছর আগের সেই ম্যাচে?এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে মূলত ইয়োহান ক্রুইফের বিখ্যাত ‘ক্রুইফ টার্ন’'এর জন্য। ১৯ জুন ১৯৭৪ সালে জার্মানির ওয়েস্টফালেন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হয়েছিল। কিন্তু ফলাফল নয়, একটি অসাধারণ মুহূর্তের কারণে পুরো বিশ্ব এই খেলা মনে রেখেছে। ম্যাচের বয়স ছিল তখন ২৩ মিনিটের মতো। বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন ক্রুইফ। সুইডিশ ডিফেন্ডার জান অলসন তাকে খুব কাছ থেকে মার্ক করছিলেন। ক্রুইফ নিজেদের গোলের দিকে মুখ করে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ডান পা দিয়ে বলটাকে বাম পায়ের পেছনে টেনে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান এবং বিপরীত দিকে দ্রুত ছুটে বেরিয়ে যান। অলসন সম্পূর্ণ বোকা বনে যান। এই মুভটিই বিশ্ববাসীর সামনে প্রথমবারের মতো দেখা গিয়েছিল। যা পরে ‘ক্রুইফ টার্ন’ নামে বিখ্যাত হয়।এটি ছিল টোটাল ফুটবলের প্রতীকী মুহূর্ত। ক্রুইফ ও রিনাস মিশেলের দর্শনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
ম্যাচের পর সারা বিশ্ব এই স্কিল নিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠে। এটি ফুটবলকে আরও সুন্দর ও চতুর করে তোলে। আজও মেসি, রোনালদো, নেইমারসহ বিশ্বের শীর্ষ খেলোয়াড়রা এই টার্ন ব্যবহার করেন। এটি ফুটবলের অন্যতম আইকনিক স্কিল। ক্রুইফের ক্যারিয়ারে এটি একটি ছোট মুহূর্ত হলেও, তার প্রতিভা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এই ম্যাচ ছাড়া ১৯৭৪ বিশ্বকাপে ক্রুইফের নেতৃত্বে নেদারল্যান্ডস ফাইনালে উঠেছিল (যদিও জার্মানির কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়)। কিন্তু সুইডেনের বিপক্ষে সেই এক মুহূর্তই তাকে চিরকালের জন্য অমর করে রেখেছে। ডাচদের কাছে এই ম্যাচ যে ক্রুইফকে মনে করারও।
Advertisement
আরআই/আইএন