দেশজুড়ে

নদী খননের মাটিতে চাপা পড়া ৬৮ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

নদী খননের মাটিতে চাপা পড়া খুলনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেছেন খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা) আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি।

Advertisement

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা গুচ্ছগ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি ও ২০ জুন এবং ২০২২ সালে তিনটি ধাপে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর, খর্নিয়া এবং কাঁঠালতলা এলাকায় শতাধিক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে তৎকালীন সরকার। চুকনগর, খর্নিয়া এবং কাঁঠালতলা এলাকায় খাস জমি চিহ্নিত করে দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি পাকা ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু যশোর ও খুলনার ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে আপার ভদ্রাসহ ৫টি নদীর (হরিহর, হরি-তেলিগাতী, আপারভদ্রা, টেকা ও শ্রী) ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ দেয় সরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে নদী খননের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের আওতায় যশোর ও খুলনা এলাকার হরিহর নদী ৩৫ কিলোমিটার, হরি-তেলিগাতি নদী ২০ কিলোমিটার, আপার ভদ্রা নদী ১৮.৫ কিলোমিটার, টেকা নদী ৭ কিলোমিটার ও শ্রী নদী ১ কিলোমিটারসহ মোট ৫টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। নদী খননের পাশাপাশি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, খননকৃত মাটি সংরক্ষণ ও স্থানীয় জনগণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহারযোগ্য করা হবে। পরিবেশবান্ধব পুনঃখনন নিশ্চিত করতে টার্ফিং ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হবে। ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Advertisement

কিন্তু স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িভদ্রা নদী খননের জন্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী থেকে উত্তোলন করা মাটি কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৩টি ঘরের পাশে ফেলা হয়। এতে পাহাড়সমান উঁচু মাটিতে চাপা পড়ে অসংখ্য ঘরের শৌচাগার, বারান্দাসহ দরজা-জানালা। এরমধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে মাটির চাপে ১৩টি ঘরের দরজা-জানালা টিন ভাঙতে থাকে। এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয় গুচ্ছ গ্রামের একাধিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত ৬৮ পরিবারের হাতে শনিবার (২০ জুন) ডুমুরিয়া-ফুলতলার সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি আর্থিক সহায়তা ও চাল তুলে দেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার জানান, ডুমুরিয়ার বরাতিয়ার কাঁঠালতলা ও খর্নিয়ার গৃহহীন পরিবারের ঘরগুলোতে নদী খননের মাটি উঠে গিয়েছিল। তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগর লবি বলেন, মানুষের দুঃখ দুর্দশায় বর্তমান সরকার সবসময় পাশে থাকবে। ডুমুরিয়ার মানুষের দুঃখ দুর্দশার প্রধান কারণ হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ভুক্তভোগী এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরিফুর রহমান/এফএ/জেআইএম

Advertisement