ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিলো বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিংয়ে আগ্রাসী মানসিকতা আর মাঠে ইতিবাচক শরীরী ভাষায় সিরিজজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু টি-টোয়েন্টি সিরিজেই মূদ্রার উল্টো পাশ দেখতে হলো তাদের। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি সিরিজে আজ বাংলাদেশের সামনেও একই লক্ষ্য, হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।
Advertisement
রোববার চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ছিল হতাশার। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছিল। ১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চাপে রেখেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন তিনজনই দারুণ সূচনা এনে দেন। একসময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল বাংলাদেশের দিকেই।
কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে একটি-দুটি ভুলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও। অল্প সময়ের ব্যবধানে সাইফ ও ইমনের বিদায়ের পর রান তোলার গতি কমে যায়। মাঝের ওভারগুলোতে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে না পারায় চাপ বাড়তে থাকে। শেষ দিকে তাওহিদ হৃদয় ঝড় তোলার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ব্যবধান অনেকটাই বেড়ে গেছে। অন্যদিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ধীর ইনিংসও রান তাড়ায় প্রভাব ফেলেছে। ফলে ১৮৯ রান তুলেও জয় ধরা দেয়নি বাংলাদেশের।
Advertisement
তবে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকও আছে। পাওয়ার প্লেতে ৭২ রান তোলা এবং অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণকে চাপে রাখা দেখিয়েছে, এই দলের সামর্থ্য রয়েছে। কিন্তু ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার ঘাটতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাটিং ইউনিট। শেষ ম্যাচে সফল হতে হলে সেট ব্যাটারদের দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস শেষ করার বিকল্প নেই।
অস্ট্রেলিয়া অবশ্য অনেকটাই নির্ভার। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করায় সফরকারীরা একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে। তবুও হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে তারা। বিশেষ করে ম্যাথিউ রেনশ দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ৮৭ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতেও অবদান রেখেছেন তিনি। টিম ডেভিড, নাথান এলিস ও অ্যারন হার্ডিও ধারাবাহিকভাবে দলকে সাফল্য এনে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশের চিন্তার বড় জায়গা অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতি। চোটের কারণে শেষ ম্যাচেও তার খেলার সম্ভাবনা নেই। ফলে নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকছে তাওহিদ হৃদয়ের কাঁধেই। নেতৃত্বে এটি তার জন্য কঠিন এক পরীক্ষা। শেষ ম্যাচে দলকে জয় এনে দিতে পারলে সেই চাপ কিছুটা হলেও কমবে।
শেষ ম্যাচের আগে শনিবার দুই দলই বিশ্রামে ছিল। কোনো দলই মাঠে অনুশীলন করেনি। ক্রিকেটাররা জিম, সুইমিং কিংবা হোটেলে সময় কাটিয়েই ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাই শেষ ম্যাচে উভয় দলের একাদশে একাধিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। চোটের কারণে আজও লিটন দাস খেলছেন না। টাইগার অধিনায়ক দ্বিতীয় ম্যাচের পরই দল ছেড়ে ঢাকায় ফিরেছেন।
Advertisement
চট্টগ্রামের দর্শকরাও বাংলাদেশের জন্য বাড়তি শক্তি হতে পারেন। ফুটবল বিশ্বকাপের ব্যস্ততার মাঝেও প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে গ্যালারিতে ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। দ্বিতীয় ম্যাচে প্রায় পূর্ণ গ্যালারিতে খেলেছে দুই দল। যদিও শেষ ম্যাচ কর্মদিবসে হওয়ায় দর্শকসংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। তবু যে সমর্থন চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীরা দিয়েছেন, তার প্রতিদান দিতে হলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে বাংলাদেশকে।
এসকেডি/আইএন